- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

হাওররক্ষা বাঁধের পিআইসি গঠন নিয়ে অসন্তোষ

স্টাফ রিপোর্টার, শাল্লা
সুনামগঞ্জে হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন নিয়ে জেলার কোথাও কোথাও অসেন্তাষ দেখা দিয়েছে। জেলার হাওরাঞ্চলের উপজেলা শাল্লায় পিআইসি গঠনের সভায় চেয়ারম্যানদের মতামতকে গুরুত্ব না দেয়ায় সভা বর্জন করেছেন উপজেলার ৪ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেরা। জেলা প্রশাসকের নিকট অনিয়মের মাধ্যমে হওয়া পিআইসি বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন চেয়ারম্যানগণ। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ এই বিষয়ে বুধবার ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে।
পিআইসি গঠন নিয়ে গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেনের সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয় শাল্লার চার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের। এক পর্যায়ে আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম আজাদ, হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল, বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিধান চৌধুরী, শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জামান চৌধুরী ফুল মিয়া পিআইসি গঠন সক্রান্ত সভা থেকে বের হয়ে আসেন ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার বিকালে (১১ জানুয়ারি) চেয়ারম্যানরা সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে চেয়ারম্যানরা দাবি করেন, শাল্লায় পিআইসি গঠনে অনিয়ম হয়েছে, তদন্তে সত্যতা মিলবে।
চেয়ারম্যানদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী (এসও) আব্দুল কাইয়ুম মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে গোপনে তালিকা তৈরি করেছেন। যা নীতিমালা বহির্ভূত। কমিটির সকল সদস্য ও উপদেষ্টাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষকদের নিয়ে পিআইসি গঠন করতে হয়। কিন্তু তা না করে টাকার বিনিময়ে কৃষক ছাড়াই পিআইসি তালিকা করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে তারা সিন্ডিকেট করে পিআইসি গঠন করেছেন। তাদের এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেন তাঁদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন, এজন্য সভা বয়কট করেছেন তারা।
আটগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম আজাদ বললেন, হাওররক্ষা বাঁধের পিআইসি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে দালালের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সকল সদস্যদের মতামত নিয়ে প্রকল্প তৈরি করতে হয়। কিন্তু তা না করে দু’জন ব্যক্তির নির্দেশেই এমন দুর্নীতি চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছেন, চেয়ানম্যানরা পিআইসির সভায় আসেন নি। সভায় না এসে কিভাবে বয়কট করা হয়, সেটা তিনি জানেন না।
জেলার তাহিরপুরের ৭০ টি পিআইসি গঠন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। উপজেলা হাওররক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন কমিটির একজন দায়িত্বশীল সদস্য (নাম না ছাপার অনুরোধ করেছেন) বলেছেন, উপজেলা হাওররক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন কমিটির সভায় পিআইসি গঠন করার বিষয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু কোথায় কারা পিআইসিতে যুক্ত হয়েছে বা করা হবে, এই নিয়ে কোন আলোচনাই হয় নি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৭০ টি পিআইসি গঠনের কথা জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান কবির বললেন, উপজেলা হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির বৈঠকে পিআইসি গঠনের গাইড লাইন তৈরি করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবেন বা বিগত সময়ে যারা পিআইসি’ তে যুক্ত হয়ে ভালো কাজ করতে পারেন নি, তাদেরকে এবারকার কমিটিতে রাখা হবে না। সেভাবেই কমিটি হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, শাল্লার চেয়ারম্যানগণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে প্রধান করে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই নির্বাহী প্রকৌশলীকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা দ্রুত এ বিষয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট দেবেন। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাহিরপুরেও অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জের ৫২ টি হাওরের ফসল রক্ষার জন্য বুধবার পর্যন্ত ৬৩১ বাঁধের জন্য ৬৩১ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • [১]