হাওরাঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ-চাষাবাদ বিঘ্নিত

বিশেষ প্রতিনিধি
মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশের হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায় ঘন কুয়াশা এবং কনকনে ঠান্ডা বাতাসের সাথে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। বোরো চাষাবাদের এই সময়ে এমন অবস্থায় আরেক নতুন শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদরা বলেছেন,‘এই অবস্থা আরো ১০ দিন চলবে। আজ সোমবার ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে আসবে তাপমাত্রা।’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক জাহিদুল হক বলেছেন,‘এই অবস্থা দীর্ঘ মেয়াদি হলে বোরো ধানের চারার কিছুটা ক্ষতি হবে।’
সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলার ১৫৪ টি হাওরে বোরো ধানের আবাদ শুরু হয়েছে। চাষাবাদের এই সময়ে শুক্রবার থেকে জেলাজুড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে বেকায়দায় পড়েছেন কৃষকরা। হাওরের পানিতে নেমে দীর্ঘক্ষণ কাজ করা কষ্টকর হয়ে ওঠেছে। হাওরে পানি নিষ্কাশনে বিলম্ব হওয়ায় এমনিতেই এবার বোরো চাষাবাদ পিছিয়েছে। এখন শৈত্যপ্রবাহে চাষাবাদে বিঘœ ঘটছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওর পাড়ের গ্রাম সদরপুরের লাল মিয়া (৪০) বললেন,‘এমন ঠান্ডা, ক্ষেতে গিয়া (যেয়ে) টিকতো পারে না মানুষ। ঘণ্টা- দেড় ঘণ্টা কাম (কাজ) করলে আস্তা (পুরো) শরীর বরফ অইজায়। মাইনষে কাম করতো পারের না ।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক        মো. জাহিদুল হক বললেন,‘শীতে এখন খুব বেশি ক্ষতি হবার কিছু নেই। তবে বোরো ধানের চারা শীতে কম বাড়বে।’
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বললেন,‘রোববার সুনামগঞ্জের তাপমাত্রা ছিল ১০.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা এ বছরের সর্বনি¤œ। আজ সোমবার তাপমাত্রা আরো নীচে নামবে। সুনামগঞ্জের তাপমাত্রা আজ সোমবার ১০ ডিগ্রির নীচে, ৯ ডিগ্রির উপরে থাকবে। ১১ ডিসেম্বরও অনুরূপ থাকবে। আগামী ১০ দিন ১১ ডিগ্রির নীচে, ১০ ডিগ্রির উপরে থাকবে সুনামগঞ্জের তাপমাত্রা।