হাওরের কোথাও কোথাও সেচের সমস্যা হতে পারে

আসাদ মনি
হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের কৃষকরা বোরোধান চাষাবাদে এবার সেচ সমস্যায় পড়তে পারেন। কৃষকরা জানিয়েছেন, হাওর থেকে পানি এবার সময়মত না নামায় বিলম্বে বীজ বপন করতে হয়েছে। এখন আবার দ্রুত হাওরের পানি কমে যাচ্ছে। এতে ধান রোপনের পর পানি সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক।
জেলার জামালগঞ্জের হালির হাওরপাড়ের বদরপুর গ্রামের কৃষক মো. খোকন মিয়া বললেন, কার্তিক মাসে বীজ বপনকালে হাওরের বীজতলা পর্যন্ত ডুবা ছিল। বীজ বপন করতে হয়েছে বিলম্বে। এখন ধান রোপনের সময় পানি দ্রুত নেমে শুকিয়ে যাচ্ছে। হাওরের একেবারে তলানি ছাড়া অন্য এলাকা হতে পানি নেমে গেছে। এতে করে ফসল মৌসুমে এবার সেচ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তিনি জানান, বোরো চাষাবাদে হাওরে সেচের প্রয়োজন খুব একটা পড়ে না। কিন্তু যেভাবে পানি নামছে এবার সেচের প্রয়োজন হতে পারে। এমন অবস্থা ২০০৭ ইংরেজিতে একবার হয়েছিল জানিয়ে এই কৃষক বলেন, সেচের চাহিদা মেঠাতে ওই বছর কোথাও কোথাও সরকারি উদ্যোগেও সেচের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরের কৃষক পরিবারের রবিউল আলম রবি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। প্রতিবছর ধান রোপন ও কর্তনের সময় বাড়িতে এসে কাজে লাগে সে। এবার বৈশি^ক করোনা মহামারিতে বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বাড়িতেই ছিলো রবি।
রবি জানালো, এবার হাওর থেকে ঠিক সময়ে পানি নামে নি। ডিসেম্বরেও হাওরে টুইট¤ু^র পানি ছিলো। কষৃকরা ঠিক সময়ে ধানের বীজ বপন করতে পারেন নি । অনেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে বীজ বপন শেষ করেছেন। এই বপনকৃত বীজ রোপনের উপযোগী হতে এক থেকে দুই মাস সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু এখন রোপনের জমি থেকে দ্রুত পানি সরে যাচ্ছে। অন্যদিকে ধানের চারাও রোপনের উপযুক্ত হয় নি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জামখলা হাওর পাড়ের কৃষক অরুণ বৈদ্য জানালেন, প্রতিবছর ১৮ কেয়ার (৬ একর) জমিতে ধান চাষ করেন। এবার চিন্তায় পড়েছেন জমিতে রোয়া দিতে পারবেন কী-না। ধানের বীজ একদিকে রোপনের উপযুক্ত হয়নি, আরেক দিকে জমি থেকে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে।
বিশ^ম্ভরপুরের কৃষক স্বপন বর্মণ অবশ্য বলেছেন, খরচার হাওরের ৬০ ভাগ জমিতে ধান রোপন শেষ। হাওরের তলানির অংশে পানি রয়েছে, পানি নামতে বাধা দেওয়া না হলে সঠিক সময়ের মধ্যেই রোপনের কাজ শেষ হবে। সেচের কোন সংকট হবে না। একই মন্তব্য করলেন, দিরাইয়ের শ্যামারচরের কৃষক নেতা অমর চাঁদ দাস।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, অক্টোবরে বন্যা হওয়ায় এবার হাওর থেকে পানি নেমেছে বিলম্বে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ফরিদুল হাসান বলেন, সুনামগঞ্জে ২ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হবে। ইতিমধ্যে ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোপন শেষ। পানি কমছে ধানের বীজ রোপনের উপযুক্ত হয় নি এ ধরণের সমস্যা খুব কম এলাকায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ধান রোপন শেষ হবে।