হাওরের জেলায় সরকারি কর্মচারীদের পদায়নে বিশেষ বিধান জরুরি

সরকারি চাকুরিতে প্রায় ৩ লাখ পদ শূন্য থাকার তথ্য জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরপর্বে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানিয়েছেন। ওই উত্তর থেকে জানা যায়, সর্বাধিক শূন্য পদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে, এখানে শূন্য পদের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৯৮৯টি। একথা সত্য, সারা বছর ধরে সরকারের ১০০ ভাগ পদ পূরণ রাখা সম্ভব নয়। কারণ প্রতিবছরই বিরাট সংখ্যক সরকারি কর্মচারী অবসরে গমন করেন। অবসরে গমনকারীদের শূন্য পদে নিয়োগ দান করা সময়স্বাপেক্ষ ব্যাপার বটে। তবে দেশে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অনুমোদিত পদ সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। এই সংখ্যক পদের বিপরীতে ৩ লাখ পদ শূন্য থাকা মানে হলো প্রায় ১৮ % পদ শূন্য থাকা। এটি অস্বাভাবিক। আমাদের সুনামগঞ্জ জেলাকে বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, প্রায় সকল সরকারি অফিসেই বিরাট সংখ্যক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবাদানকারী সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে ন্যূনতম সেবাদানে অসহায় হয়ে পড়ছে। সরকার যেসব সেবা দানের জন্য সাংবিধানিক, আইনী ও জনগণের নিকট দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ব্যাপক শূন্য পদের কারণে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব হয় না। হাওরের জেলাগুলোতে এই সংকট প্রবল। সরকারি চাকুরির শর্ত অনুসারে নিয়োগপ্রাপ্তকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে যেকোন স্থানে পদায়ন করার বিধান থাকলেও সুনামগঞ্জসহ এরকম জেলাগুলোতে তাদের পদায়ন করা যায় না। যাদেরকে পদায়ন করা হয় তারাও অল্পদিনের মধ্যেই বদলি হয়ে সুবিধাজনক জায়গায় চলে যান। ফলে একই দেশের মধ্যে থেকেও সুনামগঞ্জসহ কিছু জেলা সরকারি সেবা প্রাপ্তির বেলায় একধরনের বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন যুগ যুগ ধরে। সরকারে প্রায় ৩ লাখ পদ শূন্য না থাকলে আমাদের মতো জেলাগুলোতে কাউকে না কাউকে পদায়ন করতেই হত আর তখন এইরকম এলাকার জনবল ঘাটতি কিছুটা হলেও মিটানো সম্ভব হত। তাই আমরা কায়মনোবাক্যে চাই সরকারের প্রতিটি পদই উপযুক্ত লোক দ্বারা পূর্ণ থাকুক।
দেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারি কর্মরত আছেন। অর্থাৎ অনুমোদিত পদের ৮২ শতাংশ পদই পূর্ণ আছে। সরকার আন্তরিক থাকলে এই ৮২ শতাংশ জনবলকে সুষমভাবে বণ্টন করলে এখন সুনামগঞ্জের মত জেলাগুলো যে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে তা থেকে অনেকটাই রেহাই পাওয়া যেত। আমরা জানি, সরকারি চাকুরিতে সুনামগঞ্জের লোক খুব কম। তাই বাইরের জেলার কর্মচারীদের এখানে পাঠাতে হয়। এখন সুনামগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব খারাপ নয়। এখানকার আবহাওয়া, পরিবেশ, প্রকৃতি, বসবাসের সুবিধা, নিত্যপণ্যের বাজার; সবকিছুই অনুকূল। এরকম অবস্থায় কেন সুনামগঞ্জে আসতে তাদের অনাগ্রহ তা আমাদের বোধের অতীত। এরকম বাস্তবতায় হাওরের জেলাগুলোর জন্য পার্বত্য জেলার মত বিশেষ বিধান জারি করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। পার্বত্য জেলায় যেমন বিভিন্ন বিভাগের চাকুরীজীবীদের বাধ্যতামূলকভাবে অন্তত ২ বছর চাকুরি করতে হয় সেরকম বিধান রেখে পার্বত্য জেলার মত কিছু বিশেষ আর্থিক সুবিধার (জেলা প্রশাসক সম্মেলনে হাওর ভাতা নামে যে প্রস্তাব জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে) ব্যবস্থা রাখা অপরিহার্য বলে আমরা মনে করি।
সার্বিকভাবে সরকারের সকল শূন্য পদ পূরণ এবং বিশেষভাবে সুনামগঞ্জের মত বঞ্চিত জেলাগুলোর শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আমরা আশা রাখি।