হাওরের সৃজনশীল বিকাশকে গুরুত্ব দিন

হাওরকে সৃজনশীলভাবে বিকশিত করার বিষয়টি কার্যকর উপায়ে চিন্তাভাবনা ও বাস্তবায়ন করার সময় এসেছে। হাওরের যে অপার সম্ভাবনা তার পুরোটাই হাওরের কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিৎ। মান্ধাতা আমলের চিন্তাভাবনা আর অনগ্রসর প্রযুক্তি দিয়ে হাওরে এখন যে চাষাবাদ হচ্ছে, তার বাইরে এসে হাওরের যাবতীয় উপযুক্ততাকে বের করে আনতে পারলে দেশ উপকৃত হবে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে হাওরের এমন সম্ভাবনাকে বিকশিত করাকে উপজীব্য করে দুইটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এর একটিতে বলা হয়েছে হাওরে পরিকল্পিতভাবে খাল খনন ও ডুবন্ত সড়ক নির্মাণ। অন্য প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এবছর ফসল রক্ষার জন্য যেসব বাঁধ নির্মিত হয়েছে সেগুলোকে গ্রামীণ যোগাযোগ সড়কে রূপান্তরের। এই যে দুই চিন্তার বীজ সেটি হাওরের অপার সম্ভাবনা ও বিকাশমান বৈশিষ্ট্যের সামান্য অংশ মাত্র। এসব বিষয়কে উপেক্ষা করার অর্থ হবে জাতীয় কৃষি ও হাওর ব্যবস্থাপনায় অমনোযোগিতার পরিচায়ক।
হাওরে পরিকল্পিতভাবে খাল খনন ও ডুবন্ত সড়ক নির্মাণ করা হলে বহু উপকার পাওয়া যাবে। হাওরের মধ্যবর্তী বা দূরবর্তী অঞ্চলে চাষাবাদের উপকরণ নিয়ে যাওয়া ও উৎপন্ন ফসল পরিবহনে এসব খাল ও সড়ক যুগান্তকারী সুবিধা এনে দিবে। খালে সমবায় ভিত্তিতে মাছের চাষাবাদ করা যেতে পারে। সরকার ইদানিং হাওরে বিকল্প কর্মসংস্থান গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। খালে মৎস্য চাষের বিষয়টি হতে পারে বিকল্প কর্মসংস্থানের এক অপূর্ব সুযোগ। পাশাপাশি এসব খাল হাওরকে জলাবদ্ধতা ও অকাল বন্যার ঝুঁকি থেকেও রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে যেসব বাঁধকে স্থায়ী সড়ক করা সম্ভব সেগুলো চিহ্নিত করে সড়ক করা গেলে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারবে। স্থায়ী সড়ক নির্মিত হয়ে গেলে এসব জায়গায় বছর বছর বাঁধ নির্মাণের নামে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ হবে।
আমাদের জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে যদি কৃষিকে ধরা হয় (বাস্তবত এর বাইরে আর কোন সম্ভাবনা নেই) তাহলে কৃষি ও কৃষি ব্যবস্থার সৃজনশীল বিকাশ ব্যতিত ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। ক্রমস্ফীত জনসংখ্যাকে খাদ্য ও পুষ্টি দিয়ে স্বাস্থ্যবান রাখতে আমাদের কৃষিজ উৎপাদন ব্যবস্থাকে অবশ্যই আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, ক্রমাগত জনসংখ্যা বাড়লেও আমাদের জমি কিন্তু বাড়ছে না এক ইঞ্চিও। বরং প্রতিবছর আবাদযোগ্য কৃষি জমির পরিমাণ কমছে। সুতরাং বিদ্যমান জমির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সহ কৃষিতে বহুমুখীনতা আনয়ন ভিন্ন আর কোন উপায় নেই। আমাদের কৃষি বিশেষজ্ঞগণকে নিবিড়ভাবে এই কাজে সংযুক্ত করতে হবে।
দেশকে উন্নয়নের কাক্সিক্ষত জায়গায় নিতে গেলে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অত্যাবশ্যক। আমরা চাই হাওরের যত সম্ভাবনা রয়েছে তার সবগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞরা চিন্তা করুন এবং হাওরকে কৃষি অর্থনীতির এক সমৃদ্ধ ভা-ারে পরিণত করুন। হাওরভিত্তিক পর্যটন ইত্যাদি তথাকথিত অবান্তর চিন্তাভাবনা থেকে সরে এসে হাওরের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উপর যত তাড়াতাড়ি গুরুত্ব দেয়া সম্ভব হবে তত দেশের মঙ্গল। আশা করি সরকার ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা বিষয়গুলো গভীরভাবে ভেবে দেখবেন।



আরো খবর