হাওরে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ অপচয় বন্ধ করুন

সহযোগী দৈনিক সুনামকণ্ঠ শনিবারের প্রধান সংবাদে উল্লেখ করেছে-  ‘এবছর হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের নাম করে অপ্রয়োজনীয় শতাধিক প্রকল্প অনুমোদনসহ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সড়কেও প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে সরকারের অর্থ অপচয়সহ অনিয়মের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।’ অন্যদিকে শনিবারের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের প্রধান সংবাদে এমন একটি অপ্রয়োজনীয় বাঁধের সবিস্তারিত বিবরণ সহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সংবাদে বলা হয়েছে, দেখার হাওরে ৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের দরিয়াবাজ গ্রামের একপ্রান্ত (কলাউড়্ ামসজিদ) থেকে মিয়ারটেকা ভায়া দরিয়াবাজ গ্রামের অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ২৪৪৪ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এলাকাবাসী ও স্থানীয় কৃষকদের অভিমত হল, হাওর রক্ষায় এই বাঁধের কোন উপযোগিতা নেই। তারা বলছেন, এই নতুন বাঁধের ভিতরে মাত্র ২০/৩০ একর জমি থাকতে পারে। পুরো হাওর রক্ষায় যেসব বাঁধের কাজ চলমান তার মাধ্যমেই হাওরের এই সামান্য অংশের জমি রক্ষা পাবে বলে তাদের অভিমত। এজন্য সরকারের প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করাকে এলাকাবাসী ¯্রফে অপচয় মনে করছেন। এবার সরকার হাওরের ফসল রক্ষায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ প্রদান করেছেন। আর এই অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদানের কারণে কিছু ব্যক্তি অপ্রয়োজনীয় বাঁধের নামে দুর্নীতির মাধ্যমে লাভবান হওয়ার অভিপ্রায়ে এইসব কাজ করছেন বলে অনুমিত হয়। হাওরের ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ/সংস্কারের জন্য যে সব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মতামতের ভিত্তিতেই প্রণীত হয়েছে। তাঁরা হাওরের কোথায় বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন আর কোথায় প্রয়োজন নেই সেটি ভাল করেই জানেন। এরকম অবস্থায় যখন জেলার বিভিন্ন হাওরে শতাধিক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের অভিযোগ উঠে তখন বলা অসংগত নয় যে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা জনস্বার্থকে বিবেচনায় না নিয়ে অন্য রকম উদ্দেশ্য সাধনে লিপ্ত হয়েছেন। গতবছরের ভয়াবহ বাঁধ দুর্নীতিকে সামনে রেখে এবার এরকম কিছু না হওয়াই সকলের কাম্য ছিল। এবার বাঁধের তদারকী অন্যান্য যেকোন বছরের চাইতে বেশি হচ্ছে। সরকারের নানা সংস্থা লাগাতার বাঁধ পরিদর্শনে নিয়োজিত আছেন।  এত শক্ত তদারকি ব্যবস্থার মধ্যেই যারা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রণয়নের মাধ্যমে ম্বার্থ উদ্ধারে তৎপর তাদের সাহস রয়েছে বলতে হয়।
সরকারের উচিৎ এমনসব অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প চিহ্নিত করে অবিলম্বে সেগুলো বাতিল করা। নতুবা সরকারি অর্থ অপচয়ের দায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এড়াতে পারবে না। সরকারি অর্থ হলেও তার যথেচ্ছ ব্যবহার করতে হবে এমন দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা সংস্কৃতি কখনও কারও কাম্য হতে পারে না। আমাদের উন্নয়নযজ্ঞে কখনও সরকারি বরাদ্দের অভাব হয় না। সমস্যা হয় বাস্তবায়ন পর্যায়ের ভয়াল দুর্নীতিকে বন্ধ করতে না পারার কারণে। বছর বছর হাওরের উন্নয়নে সরকার যে বরাদ্দ দেন তার সদ্ব্যবহার হলে মূলত হাওর সহনীয় মাত্রার প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অনেক আগেই সক্ষম হয়ে যেত। কিন্তু তা হয়নি। বছর বছর বরাদ্দ আর বছর বছর লুটপাট, এমন একটি নীতিই যেন প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। মানুষের ধারণা ছিল এবার অন্তত সেরকম úরিস্থিতি হবে না। কিন্তু সংবাদপত্রের রিপোর্টগুলো মানুষের ধারণা বদলে দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের তাই সতর্ক হওয়া ভীষণ জরুরি।