হাওরে আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা বাস্তবায়ন হচ্ছে না

বিন্দু তালুকদার
দুর্গম হাওরাঞ্চলে শিক্ষার হার বাড়ানো ও দরিদ্র পরিবারের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনার জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কিন্তু প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আলোর মুখ দেখছে না এই প্রকল্পটি। সরকারের শেষ মেয়াদে এই ঘোষণা কবে বাস্তবায়িত হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত ২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী গণভবনে এইচএসসির ফলের অনুলিপি হস্তান্তর অনুষ্ঠান থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ ও কক্সবাজার জেলার শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন, ‘সুনামগঞ্জের শিক্ষার্থীদের প্রতিকূল পরিবেশে পড়াশুনা করতে হয়। হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। বর্ষায় হাওরাঞ্চলে প্রচন্ড ঢেউ ডিঙিয়ে স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা। এই অবস্থায় হাওরে আবাসিক স্কুল গড়ে তুলতে চাই আমরা।’
তিনি আরও বলেছিলেন,‘জায়গা ভাগ করে করে আবাসিক স্কুল গড়ে তুলতে পারলে শিক্ষার্থীদের হাওর পাড়ি দিতে হবে না। প্রশাসনসহ সকলে মিলে স্থান নির্ধারণ করে দিলে আমরা আবাসিক স্কুল করে দেব। তখন আর ঝুঁকি নিয়ে হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে হবে না।’
গত বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সুনামগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক  শেখ রফিকুল ইসলাম জেলার ৫টি উপজেলা থেকে সম্ভাব্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রস্তাবের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অনুরোধ করেছিলেন।
জেলা প্রশাসকের অনুরোধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসকে আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন ও বিদ্যালয়ের সকল তথ্য-উপাত্ত জরুরী ভিত্তিতে জেলা অফিসে পাঠানোর জন্য তাগিদ দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর  ইচ্ছে অনুযায়ী পাইলট প্রকল্প হিসাবে সুনামগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত উপজেলা দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও ধর্মপাশায় একটি করে আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনকল্পে জেলা শিক্ষা অফিস প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছিল।
উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিস প্রতিটি উপজেলা থেকে সম্ভাব্য হিসাবে দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামের তালিকা ও বিদ্যালয়ের সকল তথ্য-উপাত্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করা হয়।
আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের রফিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জগদল ইউনিয়নের বড়নগদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে।
প্রতি উপজেলায় দুইটি বিদ্যালয়ের নামের তালিকা করলেও দুর্গম এলাকা শাল্লা উপজেলা শিক্ষা অফিস এলাকার শাল্লা ইউনিয়নের ছবিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হবিবপুর ইউনিয়নের মার্কুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আটগাঁও ইউনিয়নের রাহুতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম তালিকাভূক্ত করেছিল।
জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেহেলী ইউনিয়নের আছানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রাথমিকভাবে তালিকাভূক্ত করা হয়েছিল।
তাহিরপুরে টাঙ্গুয়ার হাওরপারের উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের দুমাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধর্মপাশা উপজেলা সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের সুখাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মোক্তারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছিল।
জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মীর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,‘জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আমাদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছিল। আমরা গত বছরের ১৮ জানুয়ারী দুইটি বিদ্যালয়ের নাম জেলা অফিসে পাঠিয়েছি। এর পর কোন নির্দেশনা আসেনি। ’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন বালা বলেন,‘প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে সুনামগঞ্জের পাঁচটি উপজেলায় একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আবাসিকে রূপান্তরিত করার উদোগ নেয়া হয়েছিল গত বছর। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি উপজেলা থেকে দুইটি বিদ্যালয়ের নাম প্রস্তাব আকারে পাঠানোর জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসকে বলা হয়েছিল। উপজেলা থেকে তালিকা পাওয়ার পর গত বছরের ১৮ জানুয়ারি ১১ টি বিদ্যালয়ের নামের তালিকা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরে আর কোন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ’
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল আমার যোগাদানের অনেক আগে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের সময়ে। দ্রুত বিষয়টির খোঁজ-খবর নেব।’