হাওরে ধান কাটা শুরু

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
হাওরাঞ্চলে ধান কাটা উৎসব শুরু হয়েছে। এবার বৈশাখের শুরু থেকেই সকল হাওরে ধান কাটা-মাড়াই পুরোদমে শুরু হবে বলে মনে করছেন কৃষকরা। হাওর থেকে পানি আগে নামায় আগাম চাষাবাদ হয়েছে হাওরাঞ্চলে। আগাম চাষাবাদ করে ঠকেছেনও কোন কোন কৃষক। আগাম চাষাবাদের কারণে বিআর ২৮ জাতের ধানে ফলন কম হয়েছে। তবে বিআর ২৯ জাতের ধানের ফলন খারাপ হয়নি।
বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের করচার হাওরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হাওরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকরা বললেন,‘এবার পহেলা বৈশাখ থেকেই ধান কাটার ধুম পড়বে। অপেক্ষাকৃত বেশি খড়া এবং ফাল্গুনের শেষ দিকে ঠান্ডা থাকায় বিআর ২৮ জাতের ধানের ক্ষতি হয়েছে বেশি। কোথাও কোথাও এই ধানে ব্লাস্ট রোগও দেখা দিয়েছে।
জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওরপাড়ের রাধানগর গ্রামের কৃষক শহীদুর রহমান বললেন,‘ধান কাটা শুরু হয়েছে সকল এলাকায়ই, এখন কাটা হচ্ছে বিআর ২৮ জাতের ধান। এই ধানের বেশির ভাগেই চিটা। বিআর ২৯ জাতের ধান অপেক্ষাকৃত ভাল হয়েছে। অতিবৃৃষ্টি বা অকাল বন্যা না হলে ২৯ জাতের ধান কেটে ঘরে তোলা যাবে।’
এই হাওরের ফুলভরি গ্রামের কৃষক আসক আলী বললেন,‘বিআর ২৮ জাতের এক একর এক কেয়ার জমির ধান কাইট্টা (কেটে) ২৮-২৯ মণ ধান পাইছি। খরচের টাকাই ওঠছে না। এখন আরও ১৫ দিন যদি দিন ভালা থাকে, তাইলে কোন লাখান খাইয়া-বাইচ্চা থাকার ধান তোলা যাইবো।’
এই হাওরপাড়ের রাধানগরের কৃষক মেহের উদ্দিনের ধান পাঁচ’এর এক ভাগে কাটছিলেন ধনপুরের সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ভাগালো শ্রমিকরা। বললেন,‘৫ ভাগের চাইর ভাগ মালিকের, এক ভাগ আমরার, চুক্তিতে ধান কেটে দিচ্ছি, ধানে চিটা বেশি, শিলা-বৃষ্টিতেও কিছু ক্ষতি হয়েছে। এই কারণে এমন হইছে (হয়েছে)। গত বছর এই জমির ধান কাটছিলাম সাতের এক ভাগে।’
এই ধান কাটা শ্রমিক জানালেন, উপজেলার আঙ্গারুলি হাওরের কোন কোন জমিতে ধানে ব্লাস্ট রোগও দেখা দিয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস বলেন,‘যেখানেই ব্লাস্টের আক্রমণ দেখা দিয়েছে সেখানেই স্প্রে মেশিন দিয়ে ফিলিয়া, ট্রোপার ও ডায়াবেন ছিটানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে কেটে নেবারও তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বশির আহমেদ বললেন,‘ধান কাটা শুরু হয়েছে, প্রথমে কৃষকরা বিআর ২৮ ও হাইব্রিড ধান কর্তন করছেন। ফলন মোটামুটি হয়েছে। আগাম চাষাবাদ করায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বিআর ২৮ জাতের ধানের ফলন আশানুরূপ হয়নি। অন্যান্য ধানের ফলন ভালো হয়েছে।’