হাওরে ১১৫ টি বঙ্গবন্ধু কিত্তা তৈরি করা হবে

বিন্দু তালুকদার
হাওর অঞ্চলের কৃষকদের বোরো ধান চাষাবাদে হাওরের অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় কৃষকের ধান মাড়াই এবং আকস্মিক বন্যা হলে কাটা ধান রাখার জন্য মাটি ফেলে কিত্তা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের হাওরে অন্তত ১১৫টি কিত্তা তৈরি করা হবে বলে জানা গেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এর নামকরণ করা হবে ‘বঙ্গবন্ধু কিত্তা’। প্রতিটি কিত্তা অন্তত ৫ থেকে ৭ ফুট উঁচু, দৈঘ্য ১০০ ফুট ও প্রস্ত ৪০-৫০ ফুট করা হবে। এসব কিত্তা নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো- অকাল বন্যায় হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার সময় জমির কাটা ধান সাময়িক সময়ের জন্য কিত্তায় রাখা ও মাড়াইয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর নিয়ন্ত্রণাধীন হাওর অঞ্চলের অবকাঠামো ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (হিলিপ) ইতোমধ্যে (কিল্লা) কিত্তা নির্মাণের কাজ শুরু করছে। হিলিপ হাওরের জেলা সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, কেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার ২৮টি উপজেলার ১৬৫ ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
একনেকে অনুমোদিত সাড়ে ১১০০ কোটি টাকার একটি গুচ্ছ প্রকল্পের মধ্যে কিত্তা নির্মাণ প্রকল্পটি হাওরে বাস্তবায়ন করা হবে। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, তাহিরপুর, দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় এসব কিত্তা নির্মাণ করা হবে। আগামী ২০১৯ সন পর্যন্ত এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পে ‘কিল্লা’ নির্মাণ উল্লেখ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হাওরাঞ্চলের ‘দারিদ্র বিমোচন ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গণশুনানীতে সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের (এপিপিজিস্’এর) প্রতিনিধিদের কাছে বিষয়টি তোলে ধরেছেন সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন।
হিলিপ এর সুনামগঞ্জ জেলা প্রকল্প সমন্বয়কারী (ডিপিসি) মো. নুরুল আমিন বলেন,‘ সুনমাগঞ্জের হাওর প্রধান উপজেলাগুলোতে কিত্তা বা কিল্লা নির্মাণ করা হবে। হাওরে অকাল বন্যার সময় কৃষকরা যাতে এসব উঁচু স্থানে ধান রাখা ও মাড়াই করতে পারেন, সে জন্য মাটি ভরাট করে এসব কিল্লা নির্মাণ করা হবে। সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ে কতটি ‘কিল্লা’ নির্মাণ করা হবে তা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। শাল্লায় একটি কিল্লা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। তবে বৃষ্টি ও হাওরে পানি আসায় মাটি ভরাটের কাজ এখনও শেষ করা সম্ভব হয়নি। ’
এলজিইডি সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ বলেন, ‘হিলিপ প্রকল্পের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী কিছুদিন পর জেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা হবে। এরপর প্রকল্পের জায়গা সার্ভে করা হবে। আগামী অর্থ বছরে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। হাওরপাড়ের উপকারভোগী লোকজনের সাথে আলোচনা করে এসব কিত্তা নির্মাণ করা হবে। ’
গণশুনানীতে সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘হাওরে ১১৫ টি বঙ্গবন্ধু কিত্তা নির্মাণ করা হবে। হাওরের বোরো ধান চাষকারী কৃষকের ধান মাড়াই এবং আকস্মিক বন্যা হলে কাটা ধান রাখার জন্য এই কিত্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। ’