হাওড়ের আখ্যান

হিরন্ময় রায়
(১)
রৌদ্রস্নাত শস্যপূর্ণ হলদে মাঠে
কৃষাণের কাছি হেসে উঠুক
এবারে আর নিরাশ করো না প্রভু।
(২)
বুকে পাষাণ বাইন্ধা
ছাওয়ালডারে পেটে ভাতে রাইখ্যা
আইছি পরের ঘরে।
সাঝ বেলাতে কান্ধের পরে
মানিক আমার বা’জান বলে ঝাপায় না।
জোতদারের মাইয়াডা এবার বিয়োতে আসে-
সইয়ের চুলে বিনুন তোলে
মাইয়া আমার দুলে দুলে হাসে।
পরাণডায় ছাৎ কইরা উডে-
বানে ফসল না গেলে…
পিন্দন নাই, মাথার পরে ছৈ নাই
ভিডায় নাই মাডি।
হাত চালাইয়া নিড়ান দেই-
দিনে দিনে গোছা বাড়ে
ধলা জমিনের বুকে য্যান
আমার বউয়ের সবুজ শাড়ির আচঁল উড়ে।
সবুজ শীষে দুধ বানছে,
বুকডায় ধরপর কইরা উডে
ইশান কোনডির পরে
বারেবার চোখ আড়ে।
ইয়া মাবুদ রহম কর-
এইবারে বান আইলে
মরণ ছাড়া গতি নাই।
(৩)
মাটির পরে মাটি,
কিছু আসল কিছু ফাঁকি।
এসকেভেটর আর সয়েল কমপেক্টরের গর্জনে
হারায় কোদালের যৌবন,
জীবিকা নদী, হাওড় শৃংখলিত হয়-
সোনার ধরে বিকোয় মাটি।
কর্তারা ঘুরেন,হম্বিতম্বিতে কাঁপে
দিনমজুরের প্রাণ-
হাওড়ের কবিয়াল বান্ধে যুতবদ্ধ
পিআইসি আর সুশীলদের আখ্যান।



আরো খবর