হালি ও শনি হাওরের একাংশে শিলাবৃষ্টি

স্টাফ রিপোর্টার
বোরো ফসলী হাওরে কৃষকদের দুর্যোগ পিছু ছাড়ছে না। প্রাণঘাতী বজ্রপাত, টানা বৃষ্টিপাতের সাথে সোমবার গভীর রাতে জামালগঞ্জ উপজেলার হালি ও তাহিরপুর উপজেলার শনি হাওরের একাংশে শিলাবৃষ্টি হয়েছে।
এতে জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ও তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের জমির পাকা ধান ঝরে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকার জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা।
জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়নের দুর্গাপুর, মদনাকান্দি, মাহমুদপুর, হরিনাকান্দি,আছানপুর, হিজলা ও তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পৈন্ডুপ, কামদেবপুর, গোপালপুর, সাহেবপুর, মারালা, রামজীবনপুর গ্রামের কৃষকদের বোরো জমিতে শিলাবৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে হঠাৎ করে ঝড়-বৃষ্টির সাথে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় আধঘণ্টা হয় শিলাবৃষ্টি। এতে ব্রি- ২৮ ও ব্রি-২৯ জাতের ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যেসব জমিতে বেশী পরিমাণ শিলাবৃষ্টি হয়েছে সেখানে অর্ধেকেরও বেশী ধান গাছ থেকে ঝরে পড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, ‘গভীর রাতে হঠাৎ করে হালি ও শনি হাওরে কিছু অংশে শিলাবৃষ্টি হয়েছে।
যার কারণে ওই এলাকার কৃষকদের পাকা অর্ধেক ধান জমিতে ঝরে পড়ে গেছে। অনেক কৃষক শিলাবৃষ্টিতে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। যেভাবে ধান ঝরে পড়েছে, শ্রমিক মজুরি, মাড়াই খরচ দেয়ার পর কৃষকের ভাগে বেশী অবশিষ্ট থাকবে না। ’
জামালগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম আল ইমরান বলেন,‘সোমবার রাতে হালি ও শনি হাওরে কিছু অংশে শিলাবৃষ্টি হয়েছে বলে জানা। তবে হাওরের অধিকাংশ পাকা ধান কাটা হয়ে গেছে। তাই শিলাবৃষ্টি হলেও তেমন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।’
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামাল আহমদ বলেন,‘শনি হাওরের একটা অংশে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এলাকার ৬-৭ টি গ্রামের কৃষকের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাওরে কারো ২৫ ভাগ, আবার কারো ৫০ ভাগ ধান মাটিতে ঝরে পড়েছে।’
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্নেন্দু দেব বলেন,‘ শনি হাওরে শিলাবৃষ্টি হয়েছে বলে কেউ জানায়নি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া হবে। ’