হালীর হাওরে পিআইসি করছেন দুর্নীতির মামলার আসামী!

স্টাফ রিপোর্টার
জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়নের আওতাধীন হালীর হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার মূল হোতা হিসেবে পেছন থেকে পিআইসি গঠন করছেন।
তবে সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা দাবি করেছেন বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার। তিনি বলেন,‘পিআইসি গঠনের সাথে আমি জড়িত নই। এবছর ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশনায় পিআইসি গঠন করা হচ্ছে। পিআইসিতে আমি কিছু নাম দিয়েছি; মেম্বারগণও নাম দিয়েছেন। ইউএনও মহোদয় স্থানীয় তহশীলদারের মাধ্যমেও কৃষকদের নাম সংগ্রহ করেছেন। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণও নাম দিয়েছেন। সবার নাম যাচাই-বাছাই করার পর পিআইসি গঠন করা হয়েছে। কিছু     
মানুষ রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। ’
হালীর হাওরের তীরের জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের লম্বাবাঁক গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউর রহমান সামাজিক নিজের ফেইসবুক পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও ইউএনও’র দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
জিয়াউর রহমানের ফেইসবুক পোস্টের স্কিনসট কপি হালীর হাওরপাড়ের একাধিক লোক দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর কার্যালয়ে পাঠান।
জিয়াউর রহমান সোমবার রাত ১০টা ৪২ মিনিটে ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন,‘জামালগঞ্জের হালির হাওরে বেহেলী ইউনিয়নে যে সকল হাওর রক্ষা বাধেঁর পিআইসি দেওয়া হয়েছে তাদের বেশির ভাগ গত বৎসর যাদের কারণে হাওরের ফসল ভরাডুবি হয়েছিল সেই রাঘব বোয়াল দুর্নীতি মামলার আসামি পিছন দিক থেকে সবগুলো পিআইসির মূলহোতা হিসাবে কাজ করছেন।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘মাননীয় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জামালগঞ্জ মহোদয়কে বিনীত অনুরোধ করছি এই রাগব বোয়ালের হাত থেকে আমাদের হালির হাওরের পিআইসিদের বাঁচান এবং তাদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেন। আর কিছুদিন আগে তড়িগরী করে যে সকল পিআইসিগুলো দেয়া হয়েছে সবগুলো বড় রাগব বোয়ালের লোক। তারা সবাই তার এজেন্ট হিসাবে কাজ করছে। আমি দুই তিনটা পিআইসি মেম্বারদের জিজ্ঞেস করেছিলাম কিভাবে পিআইসির মেম্বার হলেন। তারা সবাই রাগব বোয়ালের কথা বলেছেন যে চেয়ারম্যান সাব আমাদের নাম দিয়েছেন। কাজ উনি আমাদের নিয়ে করবেন। আমার বিনীত আকুল আবেদন কর্তপক্ষের কাছে। এখন সময় আছে এদের হাত থেকে আমাদের এক ফসলী জমিগুলো ও বেড়ীবাঁধ রক্ষা করুন।’
বেহেলী ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক মো. মোশারফ হোসেন বলেন,‘চেয়ারম্যান অনেকদিন বলেছিলেন আমাকে একটি পিআইসি এনে দিবেন। আমাকে অনেকদিন শুধু ভাওতা দিয়েই রেখেছেন। শেষ পর্যন্ত আমাকে পিআইসি না দিয়ে তার নিজের আয়ত্তের লোকজনদের নিয়ে তিনটি পিআইসি এনেছেন ।’
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান বলেন,‘কোন পিআইসি গঠন নিয়ে কেউ আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। যারা পিআইসি পায় না তারাই নানা অভিযোগ তুলেন।’