‘হাসন রাজা মিউজিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমি করা সময়ের দাবি’

স্টাফ রিপোর্টার
নজরুল স্টাডি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারী মো. জিহাদ উদ্দিন শুক্রবার সুনামগঞ্জ শহরের হাসনরাজা মিউজিয়াম পরিদর্শন করেছেন। হাসনরাজা মিউজিয়ামে কয়েকঘণ্টা অবস্থান করার সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, হাসন রাজা মিউজিয়ামটিকে জাতির স্বার্থে সকলের স্বার্থে পূর্ণাঙ্গ মিউজিয়ামে রূপান্তর করা প্রয়োজন। এটি পূর্ণাঙ্গ হাসন রাজা একাডেমী হওয়াও জাতির দাবি, সময়ের দাবি, বিবেকের দাবি।
তিনি বলেন, হাসন রাজা এমন সব সৃষ্টি রেখে গেছেন সেগুলো যদি আমরা চর্চা করি, লালন করি তাহলে আমরা পৃথিবীর কাছে প্রমাণ করতে পারবো বাঙালি জাতি অতি উন্নত জাতি। মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মতো জাতি। এখানে এসে আমি অভিভূত। হাসন রাজা একাডেমীর জন্য কাজ করতে আমি সাধ্যমত চেষ্টা করবো। এসময় হাসন রাজা মিউজিয়ামের চেয়ারম্যান সামারিন দেওয়ান উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত. ‘আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপ রে’, ‘একদিন তোর হইব রে মরণ রে হাসন রাজা’ ‘মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দি হইয়ারে কান্দে হাসন রাজা মন মনিয়া রে’, ‘প্রেমের বান্ধন বান্ধরে দিলের জিঞ্জির দিয়া’, ‘রঙের বাড়ই রঙের বাড়ই রে’, ‘আমি না লইলাম আল্লাজির নাম রে’, ‘লোকে বলে ঘরবাড়ি ভালানা আমার’, আগুণ লাগাইয়া দিলও কুনে হাসন রাজার মনে,’ ‘গুড্ডি উড়াইল মোরে, মৌলার হাতের ডুরি’, ‘আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপ রে, সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের লেখক হাসন রাজার জন্ম ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর (৭ পৌষ ১২৬১) সুনামগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী সুরমা নদীর তীরে লক্ষণশ্রী পরগণার তেঘরিয়া গ্রামে। হাসন রাজা জমিদার পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা দেওয়ান আলী রাজা চৌধুরী ছিলেন প্রতাপশালী জমিদার। হাসন রাজা তাঁর তৃতীয় পুত্র। মাতার নাম ছিল হুরমত বিবি।
১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ৬ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সুনামগঞ্জের লক্ষণশ্রীতে তাঁর মায়ের কবরের পাশে কবর দেওয়া হয়। তার এই কবরখানা তিনি মৃত্যুর পূর্বেই নিজে প্রস্তুত করেছিলেন।