হাসপাতালগুলোর আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বেতন হচ্ছে না কেন?

জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে আউটসোর্সিং হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৩৪ জন কর্মচারী গত ৮ মাস ধরে বেতন ভাতা পাচ্ছেন না বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বেতন না পাওয়ার কারণে এই কর্মচারীরা কর্মস্থলে অনিয়মিত ও দায়িত্ব পালনে অনীহ হয়ে উঠেছেন, ফলত হাসপাতালগুলোর অভ্যন্তরীণ সেবা কার্যক্রম, বিশেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজ দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়। যারা সরকারি চাকুরিতে নিয়োজিত হন তারা মাস শেষে বেতন ভাতা পাওয়ার দাবিদার। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তব্য পালনকারী সকল কর্মচারীকে মাসান্তে বেতন পরিশোধে বাধ্য। হয়তো প্রক্রিয়াগত কারণে অনেক সময় কিছুটা সময় লাগতে পারে, তাই বলে দীর্ঘ ৮ মাস ধরে বিশাল সংখ্যক কর্মচারীকে বেতন হীন রেখে দেয়া কোনো ধরনের দায়িত্বশীলতার মধ্যে পড়ে না। আর ৮ মাস ধরে যেসব কর্মচারী বেতন ভাতা পাচ্ছেন না তাদের নিকট থেকে যথাযথ কর্তব্য পালনের আশা করাটাও বাতুলতা মাত্র। আউটসোর্সিং হিসাবে যারা নিয়োগ পেয়েছেন তারা সকলেই নি¤œপদস্ত। মাস শেষে বেতন পাওয়া তাদের জন্য অনেক বেশি জরুরি। কিন্তু স্বাস্থ্য প্রশাসন এই জরুরি কাজটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এইসব কর্মচারীর সেবা কার্যক্রম মন্থর অথবা বন্ধ হওয়ার কারণে হাসপাতালগুলো এখন যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সেজন্য স্বাস্থ্য প্রশাসনই দায়ী। তাদের উচিত অনতিবিলম্বে এই নি¤œ বেতনভুক কর্মচারীদের বেতন সমস্যার সমাধান করে তাদেরকে কাজে মনোযোগী করা।
আউটসোর্সিং নিয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই একটি বিতর্ক ছিল। আউটসোর্সিং নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগের জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়। ঠিকাদাররা নিজেদের ইচ্ছামাফিক নিয়োগ দিয়ে থাকে। এতে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি সংশ্লিষ্ট কাজের উপযোগী কিনা অনেক ক্ষেত্রেই তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। আউটসোর্সিং ঠিকাদাররা নিয়োগদানকারী কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অর্থ গ্রহণ করে পরে কর্মীদের মধ্যে বণ্টন করে। তারা কত টাকা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে গ্রহণ করে আর কর্মীদের কত টাকা পরিশোধ করে তার তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই অজানা থেকে যায়। অনেকেরই অভিযোগ ঠিকাদাররা যে পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেন তার একটি বড় অংশই নিজেদের জন্য রেখে দেন। এইভাবে আউটসোর্সিং নিয়োগটি শ্রম শোষণ ও ঠকানোর একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের উপর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এরা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা মানতে অভ্যস্ত হওয়ার শিক্ষা পায় না। এইসব কারণে আউটসোর্সিং নিয়োগ পদ্ধতিটিকে অনেকেই সমর্থন করেন না। সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগে যখন আউটসোর্সিং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছিল তখন ওই প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু ওইসব অভিযোগ আমলে নেয়া হয়নি।
৮ মাস ধরে কেন আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে স্বাস্থ্য প্রশাসন তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি। এ্র আরেক ব্যর্থতা বটে। বেতন না দেয়ার পিছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ রয়েছে। সেই কারণটি কেন প্রশাসন প্রকাশ করছেন না? স্বচ্ছতার স্বার্থে এই তথ্য জানানো দরকার। এখন যারা বেতন পাচ্ছেন না বলে কাজ করছেন না কিংবা শিথিলতা দেখাচ্ছেন অথবা কর্মস্থলে অনিয়মিত রয়েছেন; বরাদ্দ আসলে কি তাদের এইসব বিচ্যুতি বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত হারে বেতন পরিশোধ করা হবে? নাকি আবারও দুর্নীতি সংঘটনের মাধ্যমে সকলকেই পাওনা পরিশোধ করে দেয়া হবে?
হাসপাতালগুলোতে এই আউটসোর্সিং কর্মচারীদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এদের নিয়মিত যথাযথ কর্তব্য পালন একান্ত আবশ্যক। নতুবা হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়ে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে সে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বে। এই অবস্থার আশু সমাধান কাম্য।