হাসপাতালে পৌঁছে দিলেন কলেজ শিক্ষার্থী

এনামুল হক. ধর্মপাশা
এক পায়ে পচন ধরায় সড়কের পাশে কাতরাচ্ছিলেন ষাটোর্ধ এক বৃদ্ধ। পথচারীরা তাকে এক নজর দেখে ঘৃণায় পাশ কাটিয়ে যান। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এভাবেই চলে। রাত ১২টার দিকে বিষয়টি খোঁজ পেয়ে ছুটে আসেন মহিউদ্দিন আরিফ নামের এক কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। তিনি সহযোগীতা কামনা করে বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করেন ফেসবুকে। তারপর কেটে যায় রাত। পরেরদিন সকাল ৭টার দিকে আরিফ ওই বৃদ্ধকে নিয়ে যান স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে তাকে ভর্তি করে বৃদ্ধের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের বানারশিপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধের নাম মোতালিব মিয়া। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল ৭টা পর্যন্ত মোতালিব সদর ইউনিয়নের উকিলপাড়া মোড়ে সড়কের পূর্বপাশে অসহায় অবস্থান পড়েছিলেন।
উপজেলা সদরের পূর্ব বাজারের বাসিন্দা আরিফ ময়মনসিংহ নটরডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পূজার ছুটিতে দুদিন আগে বাড়িতে এসেছেন তিনি। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে আরিফ খবর পায় তাঁর বাসার অদূরে একজন অসহায় মানুষ বাম পায়ের নিচের অংশে পচন নিয়ে সড়কের পাশে পড়ে আছে। আরিফ সেখানে গিয়ে বৃদ্ধের করুণ অবস্থা দেখে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আসে। তিনি চিকিৎসা ও সহযোগীতার আশ্বাস দেন। কিন্তু আরিফ একা একা বৃদ্ধকে রাতেই হাসপাতালে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন। এভাবেই কেটে যায় সারারাত। পরে বুধবার সকাল ৭টার দিকে বৃদ্ধকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন আরিফ। ওইদিন ১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদুয়ানুল হালিম, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সালমুন হাসান বিপ্লব, কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বৃদ্ধকে দেখতে হাসপাতালে যান এবং সার্বিক খোঁজ খবর নেন। এদিকে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বৃদ্ধের পরিবারের লোকজনের সাথে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন আরিফ বলেন, ‘চোখের সামনে একজন মানুষের কষ্ট দেখে সহ্য করতে পারিনি। তাই তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডা. মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, ‘বৃদ্ধ ডায়াবেটিকসহ নানা রোগে ভোগছেন। তাকে দ্রুত ময়মসনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। এ জন্য পরিবারের লোকজন বা অন্য কেউ তাঁর সাথে থাকা প্রয়োজন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘তরুণ আরিফ একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছে। ময়মনসিংহ নিয়ে বৃদ্ধের চিকিৎসার প্রয়োজন হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করা হবে।’