হাসাউড়ার আনারস চাষীদের সুদিন

আকরাম উদ্দিন
হাসাউড়ার আনারস চাষীদের এবার সুদিন। আনারসের উৎপাদনও ভাল হয়েছে, দামও অন্য বছরের চেয়ে ভাল। সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হাসাউড়ার এই সুস্বাদু আনারসের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশব্যাপি।
প্রতিবছরই হাসাউড়ার আনারস সুনামগঞ্জের বাজারে বিক্রি হয় এবং স্থানীয় মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে। হাসাউড়ার আনারসের জন্য সুনামগঞ্জের মানুষ সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন। পাকার শুরু থেকেই বাজারে বিক্রি শুরু হয় এই আনারস। বিক্রির শুরু থেকেই লাভবান হন বাগানের চাষী, সুস্বাদু আনারস খেয়ে খুশি হন ক্রেতারা। এবার হাসাউড়ার আনারস সুনামগঞ্জ ছাড়িয়ে সিলেটেও বিক্রি হচ্ছে।
আনারস বাগের চাষী মো. গিয়াস উদ্দিন, হিরণ মিয়া, নশু মিয়া, রেজাক মিয়া, মোস্তফা কামাল জানান, ‘হাসাউড়ায় ৯০ জন চাষী রয়েছেন। প্রায় ১শ’ বিশটি আনারসের বাগ রয়েছে। প্রতিটি বাগে আছে প্রায় ৫ কেয়ার জমি । প্রতি কেয়ারে প্রায় ২ হাজার আনারস উৎপাদন হয় বলে জানান বাগানের চাষীরা। এ হিসাবে প্রতি বছর প্রায় ১২ লাখ আনারস উৎপাদন হচ্ছে। প্রতিটি আনারস ৪০ টাকা খুচরা মূল্য হিসাবে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার আনারস বিক্রি হয় হাসাউরার বাগান থেকে।’
বর্তমানে পাইকারী বাজারে একশ আনারসের দাম (বড় আকৃতির) ৪ হাজার টাকা, খুচরা মূল্যে বিক্রি হয় ৫ হাজার টাকা। মাঝারি প্রতি শ’ আনারস ৩ হাজার টাকা, খুচরা বিক্রি হয় সাড়ে চার হাজার টাকা, ছোট আকৃতির প্রতি শ’ আনারস দেড় থেকে ২ হাজার টাকা, খুচরা বিক্রি হয় ২ থেকে থেকে আড়াই হাজার টাকা।
চাষীরা জানান, বহুকাল ধরেই হাসাউড়ায় আনারসের চাষ হচ্ছে। বেশিরভাগ চাষিরই পূর্ব পুরুষের রোপিত বাগ এগুলো। এসব বাগের সামান্য যতœ নিলেই প্রতি বছর আনারসের ভাল উৎপাদন হয়। আনারসের বাগে উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো খরচ নেই।
চাষী মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে আনারসের বাগ সংরক্ষণ করে আসছি। তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য খরচ নেই। আছে সামান্য যতœ। এতে আশানুরূপ ফসল পাওয়া যায়।’
হিরণ মিয়া বলেন, ‘এবার আনারসের ভাল উৎপাদন হয়েছে। অন্যান্য বারের চেয়ে অনেকটা ভাল। ভাল দামও পাওয়া যাচ্ছে। রমজান মাসে এই আনারসের চাহিদাও ক্রেতাদের কাছে বেশি।’
নশু মিয়া বলেন, ‘এখন আনারস পাকার ঝুম। প্রতিদিন বাগের আনারস কাটি আর বাজারে বিক্রি করি।’
রেজাক মিয়া বলেন, ‘আমাদের আনারস ইচ্ছে করলে বাইরেও পাঠাতে পারি। কিন্তু সুনামগঞ্জের মানুষ আমাদের ভাল দাম দেয়, এই দামে আমরা খুশি। তাই বাইরে পাঠাতে হয় না। তবে সিলেটি পাইকাররা বাগ থেকেই অনেক আনারস কিনে নেয়।’
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বশির আহমদ বললেন,‘সুনামগঞ্জের হাসাউড়ায় প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়। এখানকার আনারস দেখতে সুন্দর, খেতে মিষ্টি, কোন ধরনের ফরমালিন হাসাউড়ার আনারস চাষীরা প্রয়োগ করেন না। এজন্য ক্রেতাদের কাছে এই আনারসের বিশেষ চাহিদা রয়েছে। আগামী মৌসুমে ওই অঞ্চলে আরও বেশি আনারস কীভাবে চাষাবাদ করা যায় কৃষি বিভাগ সেই চেষ্টা করবে।’