হাসাউড়ার আনারস বাজারে, করোনা’র কারণে দাম কম

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌর শহরে এবং জেলার বিভিন্ন স্থানের হাট-বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের হাসাউড়ার আনারস। এই আনারস স্বাদে, গন্ধে, মিষ্টিতে এবং রসে ভরপুর। জেলার বাইরের অন্যান্য আনারসের চেয়ে এই আনারস অতুলনীয়। হাসাউড়া আনারসের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এই কারণে বাংলাদেশ-ভারতের নো-ম্যানস ল্যান্ড’র মধ্যে ও এই আনারসের বাগ তৈরি করেছেন স্থানীয় চাষীরা।
জেলা সদরের হাট-বাজারে, জামালগঞ্জে, সাচনা বাজারে, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা বাজারে, ছাতকের জাউয়া ও গোবিন্দগঞ্জে, সিলেট ও মৌলভীবাজার ছাড়াও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পাইকারী দামে বিক্রি হচ্ছে হাসাউড়ার আনারস। এবার করোনা’র প্রভাব পড়েছে আনারসের দামে। এমন মন্তব্য চাষীদের।
গত ৫ বছর ধরে বেশি পরিমাণে আনারসের চাষ করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এবার প্রায় ১ হাজার ৮শত কেয়ার জমিতে ৪০ লাখ আনারস উৎপাদন হয়েছে বলে জানান একাধিক চাষী। পাহাড়-টিলায় প্রায় ২শ’ চাষী এই আনারসের উৎপাদন করেছেন। এ বছর ও আনারসের উৎপাদন বাড়ছে বলে দাবি চাষীদের।
আনারসের একাধিক চাষী জানান, প্রতি কেয়ারে প্রায় ৪ হাজার আনারসের চারা রোপন করতে খরচ হয় প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। গাছ নষ্ট হয়ে বা মরে গিয়ে প্রতি কেয়ারে অনুমান ২ হাজার আনারস উৎপাদন হয়। ১ কেয়ারের আনারস বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। এতে প্রতিটি বড় আকারের আনারস পাইকারী দরে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হয়।
তাঁরা আরও জানান, নতুন বাগে জ্যৈষ্ট-আষাঢ় মাসে আনারসের চারা রোপন করা হয়। এই চারা বড় হয়ে আনারস আসতে সময় লাগে প্রায় ২ বছর। পুরাতন বাগে চারা রোপন করতে হয় না। একবার রোপন করলে অন্তত পাঁচ বছর উৎপাদন হয়। তবে প্রতি বছর ফাল্গুন-চৈত্রে বৃষ্টি হলে আনারসের ফসল ভাল হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসাউড়া, দর্পগ্রাম, বাংলাভিটা, রসুলপুর, প্যাচাকোনা গ্রামের পাহাড়-টিলায় আনারসের অনেক বাগ রয়েছে। এসব বাগে প্রতি বছর আনারস উৎপাদন হয়ে আসছে। এবার অনেকটা বেশি উৎপাদন হয়েছে আনারস। কারণ গত কয়েক বছর ধরে আনারসের ন্যায্য দাম পাচ্ছে চাষীরা। এই কারণে চাষীদের আনারসের চাষে আগ্রহ বেড়েছে। আগামী বছর আরও বাড়বে আনারসের পরিমাণ। নতুন বাগের আনারস বাজারে আসতে শুরু করেছে প্রচুর পরিমাণে।
এবার হাসাউড়া গ্রামের চাষী আব্দুল মতিন টিলার উপর ১০ কেয়ার জমিতে আনারস উৎপাদন করেছেন। ওসমান গণি করেছেন ৩০ কেয়ার জমিতে, আব্দুর রহমান ২০ কেয়ার জমিতে, শহীদুল্লাহ করেছেন ৬ কেয়ার জমিতে, আবুল ফজল করেছেন ৫ কেয়ারে, জলিল মিয়া ৫ কেয়ারে, রবি মিয়া ১৫ কেয়ারে, আঞ্জব আলী ১৫ কেয়ার জমিতে, ফাহিদ মিয়া ২৫ কেয়ার জমিতে, নাছির মিয়া ২০ কেয়ার জমিতে, আব্দুর রহিম ১৮ কেয়ার জমিতে, আরব আলী করেছেন ৬ কেয়ার জমিতে আনারসের চাষ। বিভিন্ন টিলায় আনারসের চাষ করেছেন অন্যান্য চাষীরা।
হাসাউড়ার আনারসের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন স্থানে। এবার এই এলাকার আনারস বাগ দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানের দর্শনার্থীরা দলে দলে আসছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ড’র মধ্যে এই আনারস বাগের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। কেউ কেউ পিকনিক করছেন আবার কেউ কেউ ফটোসেশন করছেন।
আনারস চাষী ফাহিদ মিয়া বলেন, আমি এবার ২৫ কেয়ার জমিতে আনারসের চাষ করেছি। ফলনও ভাল হয়েছে। করোনা’র প্রভাবে আনারসের দাম এবার অনেকটাই কম।
চাষী নাছির মিয়া বলেন, আনারসের উৎপাদন ভাল হলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দাম কম। করোনা’র ঝুঁকি নিয়ে পাইকারগণ আসছেন না বাগে। যারা আসছেন তাদের কাছে কম মূল্যে বিক্রি করছি।
চাষী আব্দুর রহিম বলেন, আনারস বাজারে নিয়ে আসলে কাষ্টমার পাওয়া যায় না। তাই দাম দর যা পাই আনারস বিক্রি করে চলে যাই।
চাষী আরব আলী বলেন, গাঁও গেরামে করোনা’র তেমন প্রভাব না থাকলেও আনারস নিয়ে শহরের কাছাকাছি বাজারে আসলেই করোনা’র প্রভাব পড়ে আনারসের দামে। হাট-বাজারে কাষ্টমার কম। তাই আনারসের চাষীরা এবার ভাল দাম পাচ্ছেন না।