হাসাউড়ায় আনারস বাগ বেড়েছে

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের হাসাউড়ায় আনারসের উৎপাদন এবার ভাল হয়েছে। সুনামগঞ্জ শহর সহ প্রত্যন্ত এলাকার হাট বাজারে এবার ব্যাপক পরিমাণে হাসাউড়া’র আনারস বিক্রি হচ্ছে। হাসাউড়ায় আনারসের বাগের সংখ্যাও বেড়েছে। এবার উৎপাদনও হয়েছে গত বারের চেয়ে অনেকটা বেশি। এই জন্য আনারসের দামও এবার বাড়েনি। আনারসের উৎপাদন ভাল হওয়ার দাবি করেছে সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও।
সুনামগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ বশির আহমদ বলেছেন,‘গতবারের চেয়ে এবার আনারসের বাগের পরিমাণ বেড়ে ৬০ হেক্টরে পৌঁছেছে। অনেক পাহাড় টিলায় নতুন বাগান তৈরি করে আনারস উৎপাদন করেছেন চাষীরা। রসে, সুঘ্রাণে ও স্বাদে হাসাউড়ার আনারস অতুলনীয়। এই আনারস জেলার বৃহৎ জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে।’
এবার হাসাউড়ায় আনারসের বাগ রয়েছে প্রায় ১২৫টি। প্রতি বাগে অন্তত ১১ হাজার আনারস উৎপাদন হয়েছে। এই হিসাবে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার আনারস উৎপাদন হয়েছে হাসাউড়ার বাগে।
আনারস বাগের একাধিক মালিক জানান, এবারের আনারস শুধু ছোট আকারের নয়, অন্যান্য জেলার আনারসের ন্যায় বড় আকারের আনারসও বাগে রয়েছে। পুরো জুন মাস পর্যন্ত হাসাউড়ার আনারস বিভিন্ন স্থানের হাট বাজারে আসবে। এখন প্রতিদিন সকালে নৌকায় করে যে আনারস শহরে আসে, কয়দিন পর এর পরিমাণ আরও বাড়বে। আমদানী বাড়লে আনারসের দাম কিছুটা কমে আসবে।
আনারসের বাগানের মালিক ও পাইকারী বিক্রেতা আকাশ দাস জানান, আনারস প্রতি শ’ ৩ হাজার টাকা করে বিক্রি করছেন তিনি। এতে প্রতিটি আনারসের দাম পড়েছে ৩০ টাকা করে।
আনারসের বাগানের মালিক ও পাইকারী বিক্রেতা আপন মিয়া বিক্রি করছেন সাড়ে তিন থেকে ৪ হাজার টাকা প্রতি শ’।
সুনামগঞ্জ শহরের খুচরা বাজারে বিক্রি হওয়া আনারস বড় আকারের প্রতি হালি ( চারটি) ২শ’ ৫০ টাকা, মধ্যম আকারের ২ শ’ টাকা, ছোট আকারের আনারস সর্বনি¤œ ১ শত টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ী মনিন্দ্র দাস বলেন, ‘আমি প্রতিদিন প্রায় ২ শ’ আনারস পাইকারী দরে এনে বিক্রি করি। আমার আনারস সর্বোচ্চ প্রতি হালি আড়াই শ’ টাকা থেকে সর্বনি¤œ ২ শ’ টাকা করে বিক্রি করছি।
আনারসের খুচরা ব্যবসায়ী আলী আজগর বিক্রি করছেন প্রতি হালি ১৮০ টাকা থেকে সর্বনি¤œ ১ শ’ টাকা হিসাবে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বশির আহমদ জানালেন, হাসাউড়ায় এবার আনারসের উৎপাদন বেড়েছে, নতুন নতুন বাগ হয়েছে। এই আনারস দেশের অন্য যেকোন অঞ্চলের আনারসের চেয়ে সুস্বাদু, কৃষকদের চাষাবাদে সহযোগিতাসহ বাজারজাতকরণেও নানা পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।