হাসাউড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন প্রয়োজন

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের হাসাউড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রাচীন বিদ্যালয়ের উন্নয়ন না হওয়ায় পাঠদানসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এই বিদ্যালয়ের উন্নয়নে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, ১৯৫০ সালে হাসাউড়া বাজার সংলগ্ন টিলার উপরে ৬ একর ১১ শতাংশ জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় হাসাউড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছেন ৩২৫জন। শিক্ষক পদ রয়েছে ৮টি। শিক্ষক আছেন ৫ জন। বিদ্যালয়ে রয়েছে টিনের একটি পুরাতন ভবন এবং পাকা ভবন রয়েছে ১টি। এর পরেও এখানে রয়েছে শ্রেণী কক্ষ সংকট। বিদ্যালয়ের চারিদিকে বাউন্ডারী দেয়াল নেই। নিরাপদ খাবার পানির নলকূপ নেই। বিদ্যুৎ নেই।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লক দুইটি নির্মাণ করা হয়েছে টিলার নিচু এলাকায়। এই ওয়াস ব্লক বিদ্যালয় থেকে বেশ দুরে থাকায় ব্যবহার করতে পারছেন না শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ওয়াস ব্লক ব্যবহার করতে বৃষ্টি বাদলের দিনে মারাত্মক সমস্যা হয়। বিদ্যালয়ে হাসাউড়া, দর্পগ্রাম, বাংলাভিটা, রসুলপুর, শাহপুর, প্যাচাকোনাসহ কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে । গত সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৭৯ জন শিক্ষার্থী। পাশ করেছে ৬২ জন। শিক্ষার গুণগত মান ভাল রয়েছে বলে দাবি শিক্ষকদের।
হাসাউড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এমদাদুল হক, ছালেতুন নেছা, লিপি রাণী চৌধুরী, কনিকা দাস জানান, বিদ্যালয়ের নিরাপদ খাবার পানির নলকূপ না থাকায় পানির সংকট রয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের টিলার নিচে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করায় ব্যবহার করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি বাদলের দিনে মারাত্মক সমস্যা হয় আমাদের। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের দিনে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে হয় নিজেদের। কিন্তু অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অসহ্য গরম সহ্য করে পাঠ গ্রহণ করতে হচ্ছে।’
হাসাউড়া গ্রামের শিক্ষার্থী অভিভাবক আরব আলী জানান, আমাদের এই প্রাচীন বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন নেই। তাই জরুরিভিত্তিতে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রয়োজন।’
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মনোহর আলী বলেন,‘আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ভাল আছে। শ্রেণী কক্ষ সংকট থাকায় পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে। এসব সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসা উচিৎ।’