হিজড়াদের অবশ্যই মূল স্রোতে ফেরাতে হবে

জগন্নাথপুরে হিজরা জনগোষ্ঠীর নামে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি নিয়ে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সেখানে সারা দেশব্যাপী চলমান এই মহাউৎপাতের সাথে নতুন যে তথ্যটি জানা গেল তা হলো হিজড়া বহির্ভূত জনগোষ্ঠীর কিছু দুর্বৃত্তের এই চাঁদাবাজিতে যুক্ত হয়ে পড়া। ওই সংবাদে হিজড়া হিসাবে গণ্য জনৈক আব্দুল জব্বার (মিতালী) এর সাথে কিছু পুরুষ কর্তৃক পৌর শহরের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি ও মানুষের সাথে চরম অশোভন আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এলাকাবাসী হিজড়া নামের আড়ালে সংঘটিত এই উৎপাত ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নিকট লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। জটিল জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ার ফসল এই না পুরুষ না মহিলা বৈশিষ্ট্যের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষগুলো, যারা জন্মের পর থেকেই বিরূপ সামাজিক পরিবেশে অনাদর ও অবহেলার শিকার হন। হিজড়া নামে আখ্যায়িত এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষগুলো প্রকৃতির এক বিসম উপাদান, তারা যেমন দেহগত দিক দিয়ে ভিন্নতর তেমনি মানসিকভাবেও কিছু ভিন্ন বৈশিষ্টের অধিকারী। প্রচলিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তাদের মানসিকতাকে আরও বেশি করে প্রভাবিত করে। ফলে জন্মের পর থেকেই হিজড়ারা মূল জনগোষ্ঠী থেকে ভিন্ন ভাবতে শিখে। এরা নিজ পরিবার থেকে পৃথক হয়ে নিজেদের মধ্যে নিজেদের মত করে এক ক্ষুদ্র বলয় গড়ে তুলে। জীবন চালানোর জন্য এরা বহু আগে থেকে অন্যের অনুগ্রহের উপর নির্ভরশীল হয়ে আছে। সাধারণ কোন বৃত্তিতে নিয়োজিত হয়ে আয় করার চিন্তা-ভাবনা এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সাধারণভাবে দেখা মিলে না। আগে এরা সহজ-সরলভাবে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে নৃত্য-গীত পরিবেশন করে কিছু সহায়তা গ্রহণ করত, হাল আমলে এটি ভয়ানক হয়ে উঠেছে। এখন এরা সংঘবদ্ধ হয়ে চাঁদাবাজি করে, কেউ তাদের চাহিদামত চাঁদা দিতে অপারগ হলে অশোভন-অশালীন ব্যবহার করে। হিজড়া সম্প্রদায়ের নামে চাঁদাবাজির বিষয়টি এতোটাই প্রকট হয়ে উঠেছে যে, এই উৎপাতের বিষয়টি খোদ জাতীয় সংসদে পর্যন্ত আলোচিত হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও হিজড়াদের সমাজের মূল ¯্রােতে ফিরিয়ে আনার জায়গায় আমাদের জাতীয় অর্জন এখনও আশাব্যঞ্জক কিছু হয়ে উঠেনি।
হিজড়া চাঁদাবাজির আড়ালে এখন কিছু পুরুষ-মহিলাও এই দৃর্বৃত্তপনায় লিপ্ত হয়েছে। জগন্নাথপুরের ঘটনা এর প্রমাণ। ওই দুর্বৃত্তরা নিজেদের লিঙ্গ পরিচয় গোপন করে নকল হিজড়া সেজে এই চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়। সর্বত্র এখন যে পরিমাণ হিজড়া দেখা যায় তাতে সকলেরই সন্দেহ হয় এত হিজড়া আসলে আসে কোত্থেকে। মূলত নকল হিজড়াদের কারণেই এই উৎপাত ও চাঁদাবাজি অসহনীয় মাত্রায় চলে গেছে বলে যদি আমরা সন্দেহ করি তাহলে নিশ্চয়ই সেটিকে অমূলক বলা যাবে না? এই নকল হিজড়াদের চিহ্নিত করে কঠোর সাজার আওতায় আনতে হবে। আর প্রকৃত হিজড়াদের সমাজের মূল ¯্রােতে ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে কার্যকরভাবে। তৃতীয় লিঙ্গের হলেও আর দশটা মানুষের মতই হিজড়ারাও যে স্বাভাবিক বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ সেটি সামাজিক-পারিবারিকভাবে গ্রহণীয় হতে হবে। যেসব পরিবারে হিজড়া সন্তান জন্ম নেয় তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে অনাদর-অবহেলা না করে অন্য স্বাভাবিক সন্তানদের মতই বড় করে তুলতে হবে। তাহলে হিজড়াদের পরিবার ছাড়ার মানসিকতা দূর হতে পারে। হিজড়া নামক ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের এই মানুষগুলো চাঁদাবাজির কলঙ্ক নিয়ে বেঁচে থাকুক এটি আমাদের কাম্য নয়। এদের অবশ্যই সমাজের মূল ¯্রােতে ফেরাতে হবে।