হিম্মত হারিয়েছে হিম্মতেরগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়

বিন্দু তালুকদার
প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) দোয়ারবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের হিম্মতেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফলাফল চরম বিপর্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে। এই বিদ্যালয়ের ১৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
শতভাগ ফেল করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
শতভাগ পরীক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় চরম হতাশা দেখা দিয়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে। একই সাথে এই ফলাফল নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকেরা। অনেকের অভিযোগ  শিক্ষকরা সঠিকভাবে পাঠদান করেননি।
শতভাগ অকৃতকার্যের তালিকায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সামছুল আবেদীনের মেয়ে মারুফ আক্তার ও সহ সভাপতি আ. বাছিতের মেয়ে হেনা বেগমও রয়েছে।
হিম্মতেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য আব্দুল বাতির খসরু বলেন,‘দুঃখ বলার জায়গা নেই। পুরো উপজেলার মধ্যে একমাত্র আমাদের সব ছাত্র-ছাত্রীরাই ফেল করেছে। এর মূল কারণ হল শিক্ষকদের গাফিলতি। স্কুলে ঠিকমত ক্লাস ও নজরদারি হয়নি। চারজন শিক্ষকের মধ্যে দুইজন গ্রামের; একজন সুনামগঞ্জ শহর থেকে আসেন, অন্য আরেকজন আসেন কাটাখালী থেকে। পাশাপাশি গ্রামের লোকজনের দরিদ্রতা ও অসচেতনতাও রয়েছে।’
এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সামছুল আবেদীনের সাথে কথা বলতে চাইলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিমাংশু চক্রবর্তী বলেন,‘ কি কারণে এমন ফলাফল হল, আমরা ভেবে পাচ্ছি না। আমরা সবাই হতাশ হয়ে পড়েছি। ’
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রামকিক শিক্ষা অফিসার একে.এম ফজলুল হক বলেন,‘ হিম্মতেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে হওয়া হবে ও খোঁজে বের করা হবে। শিক্ষকদের কোন গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ’
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাজ্জাদ বলেন,‘ জেলায় একটিমাত্র বিদ্যালয়; দোয়ারবাজার উপজেলার হিম্মতেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফলাফল খারাপ হয়েছে বলে জেনেছি। এই বিদ্যালয়ের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নির্দেশনা দিবেন। ’ ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শিক্ষকদের দায়  রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।