হুমকিতে বাঁধ

বিশ্বজিৎ রায়, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জে নদী ও খালবিলের তলদেশ শুকিয়ে মাছ নিধনের কাজ করছে কিছু লোকজন। এ কারণে মাছের বংশ বিস্তার হুমকির মধ্যে পড়বে। অনেক প্রজাতির মাছও হারিয়ে যাবে। অন্যদিকে, নদী শুকানোয় জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়নের পুটিয়া বাঁধের ভাঙন অংশে নির্মিত ক্লোজার হুমকির মধ্যে পড়েছে। এই ক্লোজারটি ধ্বসলে বেহেলী ইউনিয়ের জুমের খাড়া হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয়রা জানান, বাঁধা উপেক্ষা করে বেহেলী ইউনিয়নের পুটিয়া ও হরিনগর গ্রামের মাঝখানে অবস্থিত বৌলাইয়ের শাখা নদী (পুটিয়া নদী) শুকিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করছে একটি চক্র। সেচের কারণে নদী লাগোয়া ৪২ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসির) আওতাভূক্ত ভাঙনে নির্মিতব্য ক্লোজারটিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ক্লোজার তীরবর্তী রোপণকৃত জমিও ধসে পড়ছে। বাঁধের কিনারে দেখা দিয়েছে ফাঁটল। একটু বৃষ্টি হলেই ধসে পড়তে পারে ক্লোজার। নদী শুকিয়ে মাছ ধরায় একদিকে ঝুঁকিতে পড়েছে হাওর রক্ষা বাঁধ, অন্যদিকে সেচের কারণে মাছের বংশবিস্তার রোধ করা হচ্ছে। এলাকাবাসী বাধা দিলেও এই কাজ বন্ধ করছে না স্থানীয় একটি চক্র। নেপথ্যে প্রভাবশালীরা থাকায় এমন ক্ষতিকর কাজ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্লোজার তীরবর্তী নদীটি শুকিয়ে মাছ শিকার করছে একটি পক্ষ। বেহেলী ইউনিয়নের হরিনগর (বাগানী) গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে তুরাব আলী ও একই গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে কামাল হোসেন, হরিনগর গ্রামের মৃত তুতা মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের কামলাবাজ গ্রামের মো. তারেক মিয়া এই নদী শুকানোর কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
অভিযুক্তদের একজন তুরাব আলী বললেন, এলাকাবাসী বাধা দেওয়ায় নদীতে লাগানো তিনটি পাম্পই রোববার সরিয়ে এনেছি। আমরা আর পাম্প লাগাবো না।
নদী শুকিয়ে মাছ ধরায় বাঁধ ঝুঁকিতে জানিয়ে বেহেলী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ৪২ নম্বর পিআইসি সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে আমি দ্রুত সেখানে যেতে যেতে তারা চলে যায়। পরে মোবাইল করে তাদেরকে পানি সেচ না করতে বলি। তারা আমাকে পানি সেচ করবে না বলে জানিয়েছে। আমি আবার সেখানে যাব।
পুটিয়া গ্রামের বাবুল সরকার বললেন, ‘আমরা বাঁধা দেওয়ার পরও তারা আমাদের বাঁধা মানে নি। মেশিন লাগাইয়া তারা পানি সেচ অব্যাহত রেখেছে। এতে কইরা বাঁধটা ভাইঙ্গা যাইব, মাছের ক্ষতি অইবো।’
একই গ্রামের নন্টু সরকার বলেন, ‘শুক্রবার থাইক্যা তারা নদীতে পানি সেচ শুরু করেছে। আমি বাঁধা দিতে চাইলে তারা আমাকে জানিয়েছে, আমরা বোঝে শোনে মেশিন লাগাইছি। কোন কথা কওয়ার দরকার নাই।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত দেব বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। তিনি সেখানে যাবেন।
প্রসঙ্গত. গত বৃহস্পতিবার জলাশয় শুকিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অপরাধে জামালগঞ্জের হাওরে মো. লুৎফুর রহমান ও মো. সফিক মিয়া নামের ২ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছেন।