হোড়ায় বসতি

জগন্নাথপুর অফিস
দরিদ্র আজমত উল্যাহর নিজের কোন জমি নেই, তারপরও বছরের খাবার জোগার করতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে নলুয়ার হাওরের এক খন্ড অনাবাদি উঁচু জমিতে ছন ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী ছোটঘর (স্থানীয় ভাষায় হোড়া) বানিয়েছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে নলুয়ার হাওরেই রাতযাপন করছেন তিনি। কৃষিকাজে স্বামী-স্ত্রী মিলে অন্যের জমির ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়া, শুকানোর কাজ করে ধান পেয়েছেন তিন মণ। গতকাল নলুয়ার হাওরে কথা হয় আজমত উল্যাহর সঙ্গে। তিনি জানান, জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক জাহির মিয়ার ধান পাহাড়া দেয়ার কাজ করছেন তিনি। আর তার স্ত্রী দিনে মাড়াই দেয়া ধান শুকানোর কাজ করছেন। তাদেরকে সহযোগিতা করছে ১২ বছরের ছেলে সামাদ। স্বামী-স্ত্রী মিলে দশ-বার মণ ধান পেলেই তাদের সংসারের সারা বছরের আহার জোগার হবে।
পাশের ছোট ঘরে (হোড়ায়) কথা হয় মীরপুর ইউনিয়নের আমড়াতৈল গ্রামের কৃষক সুলতান মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান,নলুয়ার হাওরে তাদের দুই হাল (১২ কেদারে এক হাল) জমি আছে। বাড়ি থেকে জমির দূরত্ব অনেক বেশী হওয়ায় হাওরে ধান কেটে মাড়াই দিয়ে বস্তাবন্দি করে রাখছেন। পরে গাড়ি দিয়ে ধান বাড়ি নিয়ে যাবেন। তাই হাওরে অস্থায়ী হোড়া বানিয়ে বসতি স্থাপন করেন। রান্না,খাওয়া সব কিছুই এখন হাওরে।
সরেজমিন নলুয়ার হাওর ঘুরে দেখা গেছে, হাওরে শতাধিক ছোট ছোট অস্থায়ী ঘর রয়েছে। কৃষি কাজের পাশাপাশি রান্নার জন্য চুলা বানিয়ে রান্না-বান্না করা হচ্ছে হোড়া নামের এসব অস্থায়ী ঘরে । থাকা খাওয়া বিশ্রাম সব কিছু হচ্ছে হাওরের ছোট এই ঘরটিতে।
নলুয়ার হাওরে এরকম আরেকটি ছোট ছনের ঘরে কথা হয় কৃষক জমির আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন,ধান তোলার জন্য বিশাল হাওরের এক কোণায় অস্থায়ী ছনের ঘর রাত্রিযাপন করতে তৈরী করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঝড়বৃষ্টি না হলে ভয় করে না, সারা রাত হাওরে মানুষ থাকে। ঝড়বৃষ্টি এলে অস্থায়ী ঘরে থাকতে ভয় করে। সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করেই রাত কাটাই।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা নির্মল দাস বলেন, হাওরের উঁচু জায়গাতে ধান পরিবহন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কৃষকরা অস্থায়ী ছোট ঘর বানিয়ে রাত্রিযাপন করছেন। তিনি বলেন, অনেক দরিদ্র মানুষ আছেন বড় বড় কৃষকের ক্ষতিগ্রস্ত ধান সংগ্রহ করে উপকৃত হচ্ছেন। তিনি বলেন,হাওরে ধান তোলা নিয়ে অন্যরকম উৎসাহ উদ্দীপনা রয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, চারিদিকে ধানক্ষেত মাঝে মধ্যে ছোট ছোট ছনের ঘর দেখতে অনেক ভাল লাগে। কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত ফসল তুলতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে আর মাত্র ১৫ দিনে সব ধান উঠে যাবে কৃষকের গোলায়।