হয়নি দিরাইবাসীর স্বপ্নের কালনী-কলকলিয়া সড়ক

বিশেষ প্রতিনিধি
কালনী-কলকলিয়া সড়কের কাজ না হওয়ায় প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কালনী সেতু এখনও মানুষের কাজে আসেনি। এই সড়ক বাস্তবায়ন না হওয়ায় দিরাই-শাল্লাবাসীর স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। দিরাই-শাল্লার ৫ লাখ মানুষের রাজধানী ঢাকায় যেতে ৩ ঘণ্টার পথ এবং বিভাগীয় শহর সিলেটের সঙ্গেও দিরাই-শাল্লাবাসীর দূরত্ব কমিয়ে আনার জন্য কালনী-কলকলিয়া সড়র করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পূর্ব দিরাইয়ের দেড় লাখ মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হতো এই সড়কে।
দিরাই শহরের পাশ দিয়ে যাওয়া কালনী নদীর উপর প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে কালনী সেতু নির্মিত হয়েছে। ২০১৩ সালে এই সেতুর কাজ শুরু হয়ে ২০১৫ সালে শেষ হয়।
২০১৩ সালে কালনী সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করে প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেছিলেন,‘পূর্ব দিরাইয়ের জগদল- হোসেনপুর-কলকলিয়া সড়কের কাজ শেষ হলে এই সেতু দিয়েই আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে দিরাই। সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেছিলেন, ‘এই সেতু এবং সড়ক হলে ভাটির জনপদ দিরাইয়ের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার নিশ্চয়তা হবে। উত্তরাঞ্চলের যেভাবে মঙ্গা দূর হয়েছে, ঠিক একইভাবে দিরাইয়ের দরিদ্র কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে, মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়াদের কাছে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে হবে না।’
কিন্তু তিন বছরেও প্রয়াত সাংসদ সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এবং দিরাই-শাল্লাবাসীর সেই স্বপ্নের সড়কের জমি অধিগ্রহণের কাজই শেষ হয়নি। পূর্ব দিরাইয়ের সাকিতপুরের জয়নাল আবেদীন সর্দার বলেন,‘কালনী সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ২ বছর আগে, কিন্তু কালনী সেতু থেকে জগদল- হোসেনপুর-কলকলিয়ার ২০ কিলোমিটার সড়কের জমি অধিগ্রহণই এখনো শেষ হয়নি। এই সড়ক হলে দিরাই থেকে পূর্ব দিরাই হয়ে যাওয়া সড়ক সুনামগঞ্জ-পাগলা-আউশকান্দি-ঢাকা আঞ্চলিক সড়কে কলকলিয়ায় এসে যুক্ত হবে। এর ফলে দিরাই-শাল্লার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা এবং বিভাগীয় শহর সিলেটের দূরত্ব কমে যাবে। একই সঙ্গে ভাটি অঞ্চলের উপজেলা দিরাইবাসীর বহুদিনের আকাক্সিক্ষত যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বপ্ন পূরণ হবে।’
জগদল ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শিবলী বেগ বলেন,‘হেমন্তে রোগী নিয়ে যেতে হয় পল (মাছ ধরার একধরনের যন্ত্র) দিয়ে। বর্ষায় যেতে হয় যাত্রী নৌকা দিয়ে। সব সময় নৌকাও পাওয়া যায় না। এমন দুর্গম এলাকায় বাস করছি আমরা। প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের স্বপ্ন ছিল পূর্ব দিরাইবাসীর সড়ক যোগাযোগ করা এবং দিরাই-শাল্লাবাসীর সঙ্গে সিলেট-ঢাকার দূরত্ব কমিয়ে দেওয়া। কিন্তু এখনও এই সড়কের জমি অধিগ্রহণের কাজই শেষ হয়নি। সড়কের কাজ শেষ না হলে এই সেতু কোন কাজে আসছে না। কেবল সেতু দেখেই শান্ত¦না খুঁজতে হচ্ছে আমাদের। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এই সড়কের কাজ শুরু না হলে পূর্ব দিরাইয়ের ভোটারদের কাছে লজ্জা পেতে হবে আমাদের।’
সুনামগঞ্জ এলজিইডির এই প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন,‘প্রকল্পটির প্রাক্কলন অনেক আগেই এলজিইডির সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজও শেষ পর্যায়ে। অধিগ্রহণের দুই কোটি ৫২ লাখ টাকাও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসেছে। জমির মালিকদের অধিগ্রহণের টাকা দেবার পর এলজিইডিকে জমি বুঝিয়ে দিলেই সড়কের কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে।’
দিরাই উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীদুল আলম বলেন,‘এই সড়কের জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কার্যালয় থেকে যা যা চাওয়া হয়েছিল আমরা ইতিপূর্বে তা করে পাঠিয়েছি।’
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার মো. আজমল হোসেন জানান, ‘প্রায় ২০ কিলোমিটার এই সড়কের জন্য ১৫-১৬ টি মৌজার জমি অধিগ্রহণ করতে হয়। এজন্য কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। খুব শীঘ্রই জমির মালিকদের টাকা দেবার জন্য চিঠি দেওয়া হবে। জমির মালিকদের টাকা দেবার পর জমি এলজিইডিকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তা বলেন,‘এই সড়কের জন্য ১২০ কোটি টাকার প্রকল্প বিশ্বব্যাংকের অনুমোদন লাভ করেছে। আশা করছি দ্রুত জমি অধিগ্রহণ শেষ হবে এবং কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হবে।’