হয়রানিমূলক মামলায় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নে ইসমাইলচক গ্রামে মসজিদে মোতাওয়াল্øী রাখা না রাখা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধের জের ধরে আধিপত্য বিস্তার করতে না পেরে নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।
জানা গেছে, ইসমাইলচক গ্রামের চন্দু মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ গত ৪ জুন জগন্নাপুর থানায় তার মালিকানাধীন মাছের ফিসারিতে থাকা পাহারাদারকে মারধর করে পাহারাদারের স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন। পুলিশ মামলা রেকর্ড করে তদন্তে গেলে এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পারেন। এসময় পুলিশ দেখে কী হয়েছে জানতে গেলে গ্রামের নানু মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, জোবায়ের আহমদ গ্রামের মসজিদের মুতওয়লি থাকাবস্থায় আর্থিক নানা বিষয়াদি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে গ্রামবাসী সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এ দায়িত্ব থেকে বাদ দেন।
এছাড়াও রমজান মাসে তার ভাই কে হাফিজ হিসেবে রাখার প্রস্তাব দিলে ওই প্রস্তাব গৃহিত না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। যার প্রেক্ষিতে কোন ধরনের ঘটনা ছাড়াই গ্রামবাসীতে ফাঁসাতে গ্রামের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সাত জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনের নামে কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইলচক জামে মসজিদের মুতওয়ল্লি মুক্তিযোদ্ধা মনা মিয়া বলেন, গ্রামের মৎস্য খামারে লুটপাট কিংবা মারামারির কোন ঘটনা ঘটেনি। হয়রানিমূলকভাবে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রামের বাসিন্দা এলাইছ মিয়া বলেন, এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলায় গ্রামবাসী হতবাক। পুলিশ দেখে এগিয়ে যাওয়া নানু মিয়া কে গ্রেফতার প্রমাণ করে মামলাটি কতটুকু মিথ্যা।
এছাড়াও পাহারাদারের স্ত্রীর একভরি আট আনা স্বর্ণ লুটপাট হাস্যকর অভিযোগ। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, নিজের নিকট আত্মীয়দেরকে স্বাক্ষী বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগে মামলা রেকর্ড হওয়ায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ। এ নিয়ে গ্রামে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে তিনি জানান।
জগন্নাথপুর থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনাটি অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’