১০ বছরেও এমন ভোগান্তিতে পড়েননি সুনামগঞ্জবাসী

বিশেষ প্রতিনিধি
বিগত ১০ বছরের মধ্যে সুনামগঞ্জে বিদ্যুতের এমন খারাপ অবস্থা দেখেননি গ্রাহকরা। সরবরাহ কম থাকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোড শেডিং হচ্ছে। সুনামগঞ্জ জেলা শহরের ছয় ফিডারের মধ্যে শুক্রবারও একসঙ্গে দুই ফিডারে লোড শেডিং হয়েছে সকাল থেকেই। দায়িত্বশীলরা বলেছেন, গেল দশ বছরের মধ্যে শুক্রবার লোডশেডিং করা লাগে নি। একসঙ্গে দুই ফিডারেও লোডশেডিং হয় নি। লোডশেডিংয়ে সমবন্টন নীতিও কার্যকর না হবার অভিযোগ ওঠেছে।
সুনামগঞ্জ শহরের বনানীপাড়ার বাসিন্দা লেখক ও আইনজীবী আবু আলী সাজ্জাদ হোসাইন বললেন, গত ১০ বছরে এমন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হয় নি কখনো। দিনে ও রাতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে। প্রচ- গরমে এমনিতেই অসহনীয় অবস্থা, এরমধ্যে বিদ্যুৎ ভোগান্তি থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছি আমরা।
সুনামগঞ্জ শহরের হাসননগরের (শহীদ আবুল হোসেন রোডের) বাসিন্দা শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে বললেন, কয়েকদিন হয় গরম অসহনীয়, লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণাও বেড়েছে, আজ শুক্রবারও কয়েক দফায় লোডশেডিং হয়েছে, লোডশেডিংয়ে সমবন্টনও হচ্ছে না। কোন লাইনে কম সময়, কোন লাইনে বেশি সময় ভোগান্তিতে আছেন সাধারণেরা।
ভাটি অঞ্চলের বৃহৎ বাজার জামালগঞ্জের সাচনার ব্যবসায়ী আলী আক্কাছ মুরাদ বললেন, বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা গুটিয়ে নেবার অবস্থা হয়েছে। বিশেষ করে ওয়ার্কসপ, মিল, কারখানার অবস্থা খারাপ। অন্য ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও বিদ্যুতের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নবমীর পরদিন থেকে ২৪ ঘণ্টায় আট ঘণ্টাও মিলছে না বিদ্যুৎ। এই অবস্থা এর আগে কখনো দেখিনি।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা কর্মচারী আফাজ উদ্দিন জানালেন, আজ শুক্রবারও জেলা শহরের ছয় ফিডারের সব কয়টিতেই লোডশেডিং করেছেন তারা। সকাল আট টা ৩৫ মিনিট থেকে লোডশেডিং শুরু করা হয়। বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত আমবাড়ী ফিডারে সবচেয়ে বেশি তিন ঘণ্টা ৫০ মিনিট, মল্লিকপুরে তিন ঘণ্টা ৩০ মিনিট, বড়পাড়ায় তিন ঘণ্টা ১৫ মিনিট, বেতগঞ্জে দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিট, দিরাইয়ে দুই ঘণ্টা ১০ মিনিট এবং সদর থানা ফিডারে এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট লোডশেডিং করা হয়।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান বললেন, কঠিন অবস্থায় পড়েছেন তারা। গত মঙ্গলবার জাতীয় গ্রীডে বিপর্যয় দেখা দেওয়ার পর থেকে ১০ মেঘাওয়াট চাহিদার স্থলে পাঁচ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য প্রতি ঘণ্টায় ছয় ফিডারের কমপক্ষে দুটি ফিডারে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর হয় শুক্র ও শনিবার লোডশেডিং করা লাগে নি। কিন্তু এই শুক্রবারও লোডশেডিং করতে হয়েছে। সরবরাহে সমবন্টনই করা হচ্ছে, কোন ভিআইপি কোন এলাকায় থাকলে সামান্য কম বেশি হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মকবুল আলম বললেন, ৫৮ মেঘাওয়াটের চাহিদার স্থলে ১৭ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়েছি। ৫৫ ভাগেরও বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে। চেষ্টা করেও সমবন্টন করা যাচ্ছে না জানিয়ে এই কর্মকর্তা বললেন, ব্যবসায়ী জোন এবং উপজেলা সদরের ফিডারকে গুরুত্ব দেওয়া লাগছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও পল্লী বিদ্যুতের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই দুই কর্মকর্তাই বললেন, খোলার দিনে অর্থাৎ রোববারও বিদ্যুতের সরবরাহ এভাবে থাকলে, কঠিন চাপ মোকাবিলা করতে হবে তাদের।