১১ জুয়ারি আটক এবার ধরুন পৃষ্ঠপোষকদের

১১ জুয়ারিকে জেল হাজতে প্রেরণের মাধ্যমে জুয়ার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ সকলের উদ্দেশ্যে যে সতর্কবার্তা দিতে চেয়েছেন সেজন্য তাঁদেরকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে হয়। পুলিশের এই তৎপরতা নিয়মিত চলতে থাকুক এবং এর ফলে জুয়ার মতো এক জাতি বিধ্বংসী নেশার হাত থেকে আমাদের তরুণ ও যুব প্রজন্ম রক্ষা পাক, এটুকুই আমাদের কামনা। সংবাদপত্রসূত্র থেকে জানা যায় তির-শিলং খেলায় জড়িত থাকার অভিযোগে শহরের বিভিন্ন এলাকার ১১ জুয়ারিকে বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিশ আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। ১১ জুয়ারিকে গ্রেফতার করায় অন্য জুয়ারিদের মনে নিঃসন্দেহে ভীতি ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু যদি তথাকথিত তির-শিলং খেলার স্থানীয় এজেন্টদের দুয়েকজনকে আটক করা সম্ভব হত তাহলে জুয়া বিরোধী জায়গায় অনেক সফলতা পাওয়া যেত বলে আমাদের বিশ্বাস। জুয়া এবং মাদক এই দুইটি আমাদের সামাজিক বিকাশের জন্য মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা। এই দুই প্রপঞ্চ সমাজের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে চলেছে, সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছে, সুস্থ ও মননশীল চর্চার জায়গায় আমাদের তরুণ সম্প্রদায়কে আসতে দিচ্ছে না; সর্বোপরি আমাদের সৃজনশীল তরুণ ও যুব সমাজ এই দুই রাহুর কবলে পড়ে নিজেদের সহ সমাজ ও রাষ্ট্রকে ভিতর থেকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সমাজের সুস্থ ও দায়িত্বশীল সকল অংশই কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করেন সমাজ থেকে জুয়া ও মাদক নির্মূল হোক। কিন্তু কামনা করলেই সমাজ থেকে এই দুষ্ট ক্ষতকে একেবারে দূর করা সম্ভব নয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনি চাইলে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু জুয়া ও মাদক বিরোধী অভিযানের নামে আমরা যে মামুলী ধরনের অভিযানের বিষয় দেখে আসছি তাতে করে কখনও সমাজকে এ থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। নি¤œস্তরের কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী কিংবা পরিবহনকারী আর কিছু জুয়ারিকে আটক করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায় এইসব অভিযান। কিন্তু পালের গোদারা সবসময়ই থেকে যান পর্দার অন্তরালে। সকলের জানা কথা যে, কোন শক্তিশালী পক্ষের পৃষ্ঠপোষকতা ব্যতিত জুয়া ও মাদক ব্যবসা পরিচালিত হতে পারে না। কিন্তু কখনও কোন অভিযানে এইসব পৃষ্ঠপোষকদের ধরা পড়তে দেখা যায় না। সমাজে জুয়া ও মাদকের সরবরাহ ব্যবস্থা অক্ষুণœ রেখে কিছু সংখ্যক ব্যবহারকারী ও খেলোয়ার আটক করে যে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় সেটি সকলেই বুঝেন। তাই সাধারণ মানুষ সর্বাবস্থায় আশা করেন, মাদক ব্যবসায়ী ও পৃষ্ঠপোষকরা এবং একইভাবে জুয়া খেলার যারা আয়োজক ও পৃষ্ঠপোষক, তারা ধরা পড়–ক এবং আইনের মাধ্যমে কঠোর সাজা পাক। আর তখনই কেবল এই দুষ্ট ক্ষতকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ১১ জুয়ারিকে আটক করে এর বিরুদ্ধে নিজেদের যে অবস্থান প্রকাশ করলেন আমরা সেই জায়গায় তাঁদের আরও বড় ভূমিকা আশা করি। তির-শিলং খেলায় যারা স্থানীয় এজেন্ট ও পৃষ্ঠপোষক তাদের খুঁজে খুঁজে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় তারা নিয়ে আসুন এই আমাদের প্রত্যাশা। তাহলে নতুন জুয়ারি তৈরি হওয়ার জায়গাটি সংকুচিত হয়ে আসবে। আমাদের অভিভাবকরা স্বস্তি পাবেন নিজেদের সন্তানদের বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কার জায়গাটি নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কারণে।