১৩৬ বড় ভাঙনের কোথাও ক্লোজার নির্মাণ শুরু হয় নি, উৎকণ্ঠায় লাখো কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে হাওররক্ষা বাঁধের কাজ এবার পিছিয়েছে। সোমবার পর্যন্ত জেলার একটি বড় ভাঙনেও ক্লোজার নির্মাণ কাজ শুরু হয় নি। এসব অংশে কাজ শুরু না হওয়ায় উৎকন্ঠায় রয়েছেন লাখো কৃষক। কৃষকরা বলেছেন, ফসল ডুবিয়ে নেবার ঘটনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বড় ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করেই হয়ে থাকে। অথচ. কোন বড় ভাঙনেই উল্লেখ করার মতো কাজ শুরু হয় নি।
জেলার সব কয়টি হাওরেই বড় ভাঙন রয়েছে। নদীর মধ্যস্থলে, খালের মুখে বা বর্ষায় নৌ চলাচলের জন্য বাঁধের যে অংশ কেটে দেওয়া হয় সেই অংশে এবং ফসল মৌসুমে হাওরে পানি নামানোর জন্য কেটে দেওয়া অংশে প্রতিবছরই বড় ভাঙন তৈরি হয়। অকাল বন্যা ও পাহাড়ী ঢল ঠেকানোর জন্য সেই অংশে ক্লোজার নির্মাণ করা হয়। বাঁধের অন্য অংশের চাইতে এই অংশকে ঠেকসই করে নির্মাণ করা হয় প্রতিবছরই। এসব অংশ দিয়ে পানি ঢুকেই সাধারণত বিপন্ন করে কৃষকদের। এবার সোমবার (১৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত কোন বড় ভাঙনেই ক্লোজার নির্মাণ কাজ শুরু হয় নি।
শাল্লার আনন্দপুরের কৃষক বিকাশ চক্রবর্তী বললেন, উপজেলার বরাম হাওরের পাঠখাউড়ি, ভান্ডার শারফিন খালের ভাঙন, ছায়ার হাওরের মুক্তারপুরের ভাঙন, কালিকোটার নীচগাঁওয়ের ভাঙনসহ বড় ভাঙনের কোনটাতেই এখনো কাজ শুরু হয় নি। এসব ভাঙন দিয়েই পানি ঢুকে হাওরডুবির আশঙ্কা থাকে। এগুলোতে সময়মত কাজ শুরু না হলে অসময়ে নির্মিত দুর্বল বাঁধ পানির চাপে সহজেই ভেঙে যাবে।
একই মন্তব্য করে শাল্লার আনন্দপুরের কৃষক আব্দুশ শহীদ বললেন, ছায়ার হাওরের সবচেয়ে ভীতিকর দাঁড়াইন নদীর পশ্চিমপাড়ের মুক্তারপুরের ভাঙনে সোমবার বিকালে গিয়ে দেখা গেছে, দুটি ট্রাকে দুপুর থেকে মাটি আনা শুরু করেছে, কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে সামান্য কিছু মাটি ফেলা হয়েছে। অথচ গেল বছর এই সময়ে মুক্তারপুরের ভাঙনে অর্ধেক কাজ শেষ করা হয়েছিল। এভাবে কাজ চললে বিপদে পড়তে পারেন কৃষকরা।
তাহিরপুরের শনির হাওরের লালুর ঘোয়ালার ভাঙনের ভয়াবহতা ২০১৭ সালে দেখেছেন তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও বিশ^ম্ভরপুরের কৃষকরা। এই ভাঙনে এখনো কাজ শুরু হয় নি।
দিরাইয়ের শ্যামারচরের কৃষক নেতা অমর চাঁদ দাস বললেন, আরও আগে হাওররক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করা জরুরি ছিল। গেল বছর এই সময়ে বেশিরভাগ বাঁধে কাজ শুরু হয়েছিল। বড় ভাঙন গুলোতে কাজ বেশি, বাঁশ কূপতে হয়, আড় দিতে হয়, দূর থেকে মাটি আনতে হয়। কাজেই ওই ভাঙন অংশে আগে কাজ শুরু না হলে পরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি এবং কৃষক সকলেই বেকায়দায় পড়তে পারেন। তিনি জানান, সোমবার শাল্লা উপজেলা পরিষদে গিয়ে দেখেছেন, একেকে পিআইসিতে ঢুকার জন্য একাধিক গ্রাম্য মোড়ল, রাজনৈতিক কর্মী তদবিরে গেছেন। কে পিআইসিতে ঢুকবে এই প্রতিযোগিতা এখনো চলছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, এই পর্যন্ত ৭৮৭ টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। ৬০৬ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন হয়েছে। ৪৪ টি বাঁধে কাজ শুরু হয়েছে। রোববারের জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের তাগাদা দেওয়া হয়েছে, বড় ভাঙন অংশে জরুরি ভিত্তিতে ক্লোজারের কাজ শুরু করার জন্য। তিনি জানান, বাঁধের কাজের প্রথম কিস্তির অর্থ (অগ্রিম) ইতিমধ্যে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কোন অজুহাতে এখন আর কাজ বিলম্বিত করার সুযোগ নেই। সোমবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফজলুর রশিদসহ পাউবো’র একটি বিশেষ দল জামালগঞ্জের হালি, শনি ও বিশ^ম্ভরপুরের আঙ্গারুলি হাওরের ভাঙন অংশসহ বাঁধের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন।