১৩ জনের মধ্যে আছেন ৫ জন চিকিৎসক

এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবার ব্যাঘাত ঘটছে। এখানে ১৩ জন চিকিৎসকের মধ্যে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন মাত্র ৫ জন। ১৩টি পদের মধ্যে ৮টি পদই শূন্য রয়েছে। শূন্য পদগুলো হল আবাসিক মেডিকেল অফিসার ১ জন, ডেন্টাল ১ জন, কনসালট্যান্ট ৪ জন (সার্জারী, মেডিসিন, গাইনী,্ এ্যনেস্থেশিয়া) ও ইউনিয়ন মেডিকেল অফিসার ২ জন। উপজেলার ৩ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর সেবা দিতে গিয়ে ৫ জন চিকিৎসক প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি শুরু থেকেই ৩০ শয্যা বিশিষ্ট ছিল। গত বছরের ২৫ জানুয়ারি থেকে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। ৩০ শয্যা থাকাকালীন সাময়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে কখনও ২ জন, কখনও ৩ জন চিকিৎসকের উপস্থিতি ছিল। পরে ৩৯ তম বিসিএসএ ৬ জন চিকিৎসক এক সঙ্গে নিয়োগ হয় এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। নিয়োগের পর পরই ৩ জন চিকিৎসক অন্যত্র বদলি নিয়ে চলে যান। অপর ৩ জন এখনও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। নতুন নিয়োগকৃত ৩ জন, পূর্বের ১ জন ও ডিজির আদেশক্রমে ১জন সহ মোট ৫ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের এখন চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা থাকলেও তিনি মাসের অধিকাংশ সময় অফিসিয়াল কাজকর্ম, মিটিং ও সেমিনার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে একটি সূত্র জানায়।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হোসেন খান জানান, শুনেছি কিছুদিন আগে এখানে নতুন ৬ জন চিকিৎসক যোগদান করেছেন। আবার শুনি ৩ জন চিকিৎসক ইতিমধ্যে অন্যত্র বদলি হয়ে চলেও গেছেন। সত্যি বলতে কি চিকিৎসক সংকটের কারণে উপজেলার সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক থাকতে চান না। নতুন নিয়োগ দিলেও তারা যোগদানের দিন থেকেই অন্যত্র বদলি নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। যারা এখানে আছেন প্রত্যেকেই চেষ্টা করছেন সাধ্যমত সেবা দেয়ার।