১৫ লাখ টাকার সরকারি ঘর ভেঙে নিলেন ঠিকাদার

বিশেষ প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় ১৫ লাখ টাকার একটি আধাপাকা ঘর (রেস্টহাউস) নিলাম ছাড়াই এক ঠিকাদার ভেঙে নিচ্ছেন। এ বিষয়টি স্থানীয় লোকজন সওজ কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা আমলে নেননি। গত এক সপ্তাহ ধরে এই ঘর ভাঙা হচ্ছে। রেস্ট হাউসের ওই স্থানে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভবন তৈরি হবে। মুক্তিযোদ্ধা ভবন নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার কারও কোন অনুমতি ছাড়াই রেস্টহাউসটি ভেঙ্গে এর বিভিন্ন জিনিসপত্র যেমন- রড, দরজা, জানালা, টিন ইত্যাদি নিয়ে যাচ্ছেন।
একসময় ধর্মপাশা উপজেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যক্রম দেখভাল করতো সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় এবং জেলা সদর থেকে ওই উপজেলা সদর অনেক দূরে হওয়ায় ১৯৯৭ ইংরেজিতে ধর্মপাশা উপজেলা সদরে সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগ একটি আধাপাকা আধুনিক রেস্টহাউস নির্মাণ করেছিল। ওখানে সড়ক বিভাগের কিছু প্রকৌশলীসহ কর্মচারীরা প্রায়ই রাত্রি যাপন করতেন। ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট পর্যন্ত এই রেস্টহাউস সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগ ব্যবহার করেছে। এরপর ধর্মপাশা উপজেলার সওজ’এর কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্ব পায় নেত্রকোণা সড়ক ও জনপথ বিভাগ। নেত্রকোণা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেই থেকেই ধর্মপাশা উপজেলা সদরের এই রেস্টহাউস ব্যবহার করেছে। সওজ’র কর্মচারীরা এখানে থাকতেন। সপ্তাহ্ খানেক আগেও ধর্মপাশা উপজেলা সদরে এটি সওজ’র রেস্টহাউস হিসাবেই পরিচিত ছিল। এর মধ্যেই এই রেস্টহাউস ভাঙা শুরু হয় এবং দেখতে দেখতেই ভেঙে ফেলা হয় রেস্টহাউসের বেড রুম, ডায়নিং রুম, বাথরুমসহ অন্যান্য কক্ষগুলো।
ধর্মপাশা উপজেলায় কর্মরত একজন সরকারি কর্মচারী জানান, প্রায় ৪০ ফুট প্রস্থ ও ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যরে এই রেস্টহাউসে দুটি বেড রুম, একটি ডায়নিং রুম, একটি কিচেন এবং দুটি বাথরুম ছিল। অর্ধপাকা এই রেস্ট হাউসটির উপরে লোহার অ্যাঙ্গেল ছিল, দরজা-জানালা অনেক ভাল ছিল। উপরের টিনও ভাল রয়েছে। এই ঘরগুলো নিলাম না করে সওজ’র যোগসাজসে ঠিকাদার ভেঙে নিয়ে যাচ্ছেন।
ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিস বলেন,‘এটি অনিয়ম, একটি বড় রেস্টহাউস ছিল ওখানে, পুরাতন হিসাবেও এটি ৮-১০ লাখ টাকার সম্পদ ছিল। কে-কীভাবে এটি ভাঙছে, আমরা জানি না।’
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য নেত্রকোণার ঠিকাদার মাইনুদ্দিনের মুঠোফোন নম্বরে কয়েকবার চেষ্টা করে এক পর্যায়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নেত্রকোণা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার বলেন,‘এই ঘরটি ছিল কংস সেতুর ঠিকাদারের, ঠিকাদার এটি ভেঙে নেয়নি। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এটি ব্যবহার করেছে। জমি জেলা প্রশাসকের খতিয়ানভুক্ত। ঘরও মূলত আমাদের নয়। এজন্য এটি নিলাম ডাকা হয়নি।’ রেস্ট হাউস বলতে কিছুই ছিল না দাবি করে এই কর্মকর্তা বলেন, কিসের রেস্টহাউস, ধর্মপাশা উপজেলা সদরে আবার রেস্টহাউস হবে কেন।