১৬ বছর পর হাওরে অনুকূল আবহাওয়া

বিশেষ প্রতিনিধি
হাওরাঞ্চলে এবার আবহাওয়া নিয়ে কোন উৎকণ্ঠা নেই। ১৬ বছর পর এমন অনুকূল আবহাওয়ায় ধান কাটছেন কৃষকরা। ১৬ বছর আগে ২০০১ ইংরেজির ২১ এপ্রিলে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের পাশ দিয়ে বহমান সুরমা নদীতে পানির উচ্চতা ছিল ১.৯২ মিটার। ১৬ বছর পর ২০১৮’এর ২১ এপ্রিল সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ১.৮২ মিটার। কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রকৃতির অপার মহিমা এবার, গত বছর ধানে গোটা আসার আগেই ডুবেছিল হাওর, এবার আতঙ্ক-উৎকন্ঠা ছাড়াই মনের আনন্দে ধান কাটছেন তাঁরা।
পাউবো’র সুনামগঞ্জ অফিসের দায়িত্বশীলরা জানান, ২০০১ সালে ২১ এপ্রিলে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১.৯২ মিটার, একই দিনে ২০০২’এ ছিল ৬.৪৩ মিটার, ২০০৩’এ ছিল ৪.৬৮ মিটার, ২০০৪’এ ছিল ৮.০৮ মিটার, ২০০৫’এ ছিল ৪.২০ মিটার, ২০০৬’এ ছিল ৪. ২০ মিটার, ২০০৭’এ ছিল ৩.৩৪ মিটার, ২০০৮’এ ছিল ৩.৬৬ মিটার, ২০০৯’এ ছিল ২.৭৩ মিটার, ২০১০’এ ছিল ৭.১৭ মিটার, ২০১১’তে ছিল ২.৯৪ মিটার, ২০১২’তে ছিল ৪.০২ মিটার, ২০১৩’এ ছিল ২.২০ মিটার, ২০১৪’এ ছিল ২.৪৬ মিটার, ২০১৫’এ ছিল ৩.৩৮ মিটার, ২০১৬’এ ছিল ৬.৭১ মিটার, ২০১৭’ তে ছিল ৬.৬১ মিটার এবং ২০১৮’এ ১.৮২ মিটার।
দিরাই উপজেলার কালিকুটা হাওরপাড়ের মাছুয়ার খাড়ার বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস ছত্তার বলেন, ‘কালনী ও চামতি নদীর পানি ১৫-১৬ বছরের মধ্যে এতো নীচে দেখিনি। এবার কোন বিপদ নেই। এখন কিছু বৃষ্টি হলেও হাওরে জলাবদ্ধতা হবে না। নদীর পানি টুইটুম্বুর হয়ে বাঁধ ভাঙনের ভয়ও নেই। হাওরে বৃষ্টির পানি জমলেও বাঁধ কেটে পানি নদীতে ছাড়া যাবে। আরও ৮-১০ দিন আবহাওয়া এভাবে থাকলেই ধান ঘরে তুলতে কোন অসুবিধা হবে না।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওরপাড়ের রাধানগরের কৃষক কফিল আহমদ বলেন, ‘হাওরের পাশের ঘটঘটিয়া নদীতে এবারই এতো কম পানি দেখেছি। তবে গত দুইদিন মুষলধারে বৃষ্টি (ভারী বর্ষণ) হয়েছে বিশ্বম্ভরপুরে। কিছুটা ভয় লেগেছে। রোদে-বৃষ্টিতে আরও ১৫ দিন গেলেই আমাদের সব চিন্তা দূর হয়ে যাবে। এবার যেভাবে ফসল হয়েছে। সকলের মুখেই হাসি রয়েছে।’
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওরপাড়ের জলালপুর গ্রামের কৃষক ফজলু মিয়া বলেন, ‘আবহাওয়া এবার ধান কেটে ঘরে তোলার অনুকূলে রয়েছে। তবে জেলার সকল বালু-পাথর মহাল কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখলে শ্রমিক পেতে সহজ হতো। তাড়াতাড়ি ধান কেটে বাড়ীতে আনা যেত।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভ্ইুয়া বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেকর্ড অনুযায়ী ১৬ বছর আগে একবার ২১ এপ্রিলে সুরমা নদীর পানি ১.৯২ মিটার উচ্চতায় ছিল। এবার তার চেয়েও কম ১.৮২ মিটার। শুক্রবার (২০ এপ্রিল) আরও নীচে ছিল নদীর পানি, রাতে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেড়েছে। পানি উন্নয়ন রেকর্ডে নদীর পানির উচ্চতা এই সময়ে এতা কম খুঁজে পাওয়া যায়নি।’
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘২২, ২৩ ও ২৪ এপ্রিল সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে রোদ বৃষ্টি মিলিয়েই থাকবে। ২৪ তারিখের পর বৃষ্টি আরও কমবে।’ তবে মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে আগামীকাল রোববার ও এর পরের দিন সোমবার বৃষ্টি হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার সাহা জানিয়েছেন, শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় ৩২ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। পুরো হাওরাঞ্চলেই এখন ধানা কাটা চলছে।



আরো খবর