২০ কোটি টাকা ব্যয়ে হচ্ছে ১২ খাল খনন

বিশেষ প্রতিনিধি
আগামী নির্বাচনের আগেই সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায় প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ টি খাল খনন করা হবে। দেশব্যাপি সদর উপজেলায় দুইটি এবং অন্য উপজেলাগুলোতে একটি করে খাল খনন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই খাল খননের এই প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হতে পারে বলে পাউবো সূত্রে জানা গেছে। এদিকে কোন কোন উপজেলায় ভরাট হয়ে হাওরবাসীকে বিপন্ন করার মতো খালও প্রথম দফায় খনন হচ্ছে না। আবার কোথাও কোথাও কম গুরুত্বপূর্ণ খালও খনন হবে বলে পাউবো’র খাল খননের তালিকা থেকেই তথ্য পাওয়া গেছে।
সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা খালগুলো হচ্ছে- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী কাংলার হাওরের পানি নিস্কাশনের জন্য ৩ কোটি ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ধলাই নদী খনন, এই উপজেলার জোয়ালভাঙা হাওরের পানি নামার জন্য নৌকাখালী খাল খনন করা হবে এক কোটি ৫৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয়ে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আঙ্গারুলি ও করচার হাওরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া ধামালিয়ার খাল খনন হবে দুই কোটি ৯৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে, এসব খালের পানি সুরমা নদীতে এসে নামবে। জামালগঞ্জের হালির হাওরের রাতলার খাল এক কোটি ৭২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয়ে খনন হবে, এই খাল দিয়ে পানি বৌলাই হয়ে সুরমায় নামবে। তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরের আহম্মকখালী খাল ৩৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে খনন করা হবে। এই খাল দিয়ে পানি আবুয়া নদী ও আপার বৌলাই হয়ে সুরমায় নামবে। ধর্মপাশার রাজাপুর হতে চানপুর খাল এক কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে খনন হবে। এই খাল দিয়ে পানি কংস নদ হয়ে সুরমায় নামবে।
৫১ লাখ ১১ হাজার টাকা ব্যয়ে ছাতকের গোলাদাইড় খাল খনন হবে। জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরের পানি নামার জন্য এক কোটি ৯৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ইটাখোলা খাল খনন করা হবে। দেখার হাওরের পানি নামার জন্য দুই কোটি ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের নাইন্দা নদী খনন করা হবে। ৩৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে দিরাই উপজেলার হুরামন্দিরা হাওর থেকে পানি পুরাতন সুরমায় নামার জন্য মনঝুরি খাল খনন করা হবে। ৬৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ছায়ার হাওর থেকে পানি পুরাতন সুরমায় নামার জন্য শাল্লা উপজেলার আব্রার খাল এবং দুই কোটি ৫০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ব্যয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলার রাইলী সুনুগাঁও নৌকাডাঙা খাল খনন করা হবে।
জেলা সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ বলেন,‘এভাবে প্রত্যেকটি উপজেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি খাল খনন না করে বৃহৎ হাওরগুলোর মধ্যে যে হাওরে বেশি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, সেখানে এক বা একাধিক খাল খনন করলে মানুষ বেশি উপকৃত হতো। খাল খননের তালিকা দেখেই বুঝা যায়, অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন হচ্ছে না, আবার কম গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন হচ্ছে।’ তিনি জানালেন, জামালগঞ্জের পাগনার হাওরের পানি নিস্কাশনের জন্য গজারিয়া ও কানাইখালী নদী খনন শুরু হয়েছে। কিন্তু ঢালিয়া রেগুলেটরের খাল খনন কাজ এখনো শুরু হয়নি। অথচ ১০ হাজার হেক্টর জমির এই হাওরের ফসল চাষাবাদের জন্য ঢালিয়ার খাল খনন জরুরি।
সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন,‘উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সদর উপজেলায় দুটি এবং অন্য উপজেলায় একটি করে খাল খননের প্রাক্কলন করে পাঠানো হয়েছে। প্রথম দফায় এই সরকারের সময়েই এই খালগুলোর খনন কাজ শুরু হবে। দ্বিতীয় দফায় অন্যগুলো হবে। যেহেতু সদরে দুটি এবং অন্য উপজেলায় একটি করে খাল খনন হবে, সেহেতু জরুরি থাকলেও সেটি প্রথম দফায় করা যাচ্ছে না।’