২৫০ শয্যার হাসপাতালটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠুক

২৫০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পথে, এই খবরে সুনামগঞ্জবাসী যারপরনেই খুশি হবেন। কারণ এর মধ্য দিয়ে জেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগ সুবিধার সম্প্রসারণ ঘটবে। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা ন্যুনতম চিকিৎসা সেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এখানে আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা থাকবে যাতে করে রোগীদের কথায় কথায় সিলেট পাঠাতে হবে না, প্রসূতি মায়েদের এখন আর প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে মোটা টাকা ব্যয় করে সন্তান জন্ম দিতে হবে না; এমন কত সুচিন্তা মানুষের মনে জাগ্রত হবে এই হাসপাতাল নির্মাণের খবর জেনে তার ইয়ত্তা নেই। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছেন, এ মাসেই নবনির্মিত সুপরিসর ভবনটি হাসপতাল কর্তৃপক্ষের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে জেলার সিভিল সার্জন বলেছেন, জানুয়ারি মাস থেকেই নতুন ভবনে স্বাস্থ্যসেবা দানের কাজ শুরু করা যাবে। জেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোয় সরকারকে আমরা অভিনন্দন জানাই।
শুধু ভবনে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অবাস্তব বিষয়। যদি এখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকসহ জনবল পদায়ন না করা হয় কিংবা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযুক্ত না করা হয়, তাহলে নিরেট ইটপাথরের এই বিশাল ভবনটি কার্যত কোন সুফল বয়ে আনতে পারবে না। সুতরাং ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার সাথে সাথে এর উপযোগী জনবল ও আনুষাঙ্গিক সুযোগ সুবিধাদির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও জেলাবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ। আমরা জানি বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যাবিশিষ্ট। এই হাসপাতালেরই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য জনবল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এই হাসপাতালের বহু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিক্যাল অফিসারসহ নার্সের পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। সাধারণ রোগীরা চিকিৎসার জন্য গিয়ে বিফল মনোরথে ফিরে আসেন এখান থেকে। এমন অবস্থায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালে পূর্ণ জনবল পদায়ন করার আশাটা কতোটা বাস্তবসংগত সেটি কেবল ভবিষ্যৎই বলতে পারে।
চিকিৎসকরা এখন মফস্বল শহরে থাকতে পছন্দ করেন না। বড় শহর ও মেডিক্যাল কলেজগুলোতেই থাকতে চান তারা। নানা ধরনের সংযোগসূত্র ও প্রভাববলয় ব্যবহার করে তারা ঠিকই মফস্বল বা ছোট শহরের পোস্টিং এড়িয়ে চলতে সক্ষম হন। কিন্তু এই দেশের বেশির ভাগ মানুষই বাস করেন বড় শহর, নগর ও মহানগরের বাইরে। চিকিৎসকরা যদি মফস্বলে এসে চিকিৎসা করতে না চান তা হলে সম্পূর্ণ জাতির জন্য সুষম স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো দাঁড় করানো আদৌ সম্ভব নয়। চিকিৎসকদের বুঝতে হবে, তাঁদের একজনকে চিকিৎসক বানাতে এই দেশের সাধারণ মানুষ অনেক টাকা ব্যয় করে থাকেন। তারা যে বেতন-ভাতাদি গ্রহণ করেন তাও আসে ওই সাধারণ মানুষের দেওয়া করের টাকা থেকেই। এরকম অবস্থায় সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের মানুষ, যারা সংখ্যাধিক্যও বটেও, চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি তাদের জন্য কোন দয়া-দাক্ষিণ্য দেখানো নয়। এই সেবা পাওয়া তাঁদের মৌলিক অধিকার। সরকারকেও এই সহজ সত্যটি অনুধাবন করতে হবে কোন ধরনের গোষ্ঠীগত চাপকে অগ্রাহ্য করে।
আমরা কামনা করব, সুনামগঞ্জের নবনির্মিত ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি শুরু থেকেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসাবে জেলাবাসীর চাহিদা মিটাতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।    



আরো খবর