২৮ দিন পর কড়া রোদ

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
‘আউজগা অইল বৈশাইগ্যা রইদ এইলা রইদ বৈশাগের ২০ তারিখ পরযন্ত থাকলে ধানের খলা পরিস্কার হইয়্যা যাইত।’ কথাগুলো বলছিলেন, তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরপাড়ের কৃষক রুহুল আমিন। রুহুল আমিনের পাশের ধানের খলায় ধান শুকানোয় কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ছালিম উদ্দিন। তিনিও আক্ষেপ করে বলেন, ‘বৈশাখ মাসের ২৮ দিন পার অইয়্যা গেছে একটা ফুঙ্গা ধানও ঘরে তুলতে পারি নাই। আইজগ্যার রইদে পোলাপাইন লইয়্যা ধান গুকানোর কাজে লাগছি দেখি আল্লায় কি করেন।’ হাওরপাড়ে কৃষকদের দুঃখের শেষ নেই। একতো পর পর দুই বছর হাওরের ফসল ডুবায় প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে কৃষক পরিবার।
হাওরপাড়ের কৃষকরা বলেন, এ বছর সরকার মার্চ মাসের ১৫ তারিখের মধ্যেই হাওরের সকল ফসল রক্ষার বাঁধের কাজ সম্পন্ন করেছে। ভাবছিলাম এবারের ফসল ভালভাবেই গুলাতে উঠবে। কিন্তু প্রকৃতি শেষ দিকে এসে নির্দয় হয়ে উঠেছে। বৈশাখ মাসের যে পিটপুড়া রৌদ্র তা যেন হাওরপাড়ে এবার নেই।
বৈশাখ মাসের ২৮ দিন পার হওয়ার পর শনিবার প্রখর রৌদ্র ওঠার ফলে হাওরপাড়ের কৃষকরা উৎসবের মত ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এ বছর বৈশাখ মাসের শুরু থেকেই বৈরী আবহাওয়া ও মেঘে ঢাকা সূর্য অপরদিকে হাওরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট সব মিলিয়ে যেন কৃষকরা তাদের নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারছিল না। গত ২৮ দিন পর্যন্ত যে সমস্ত ধান হাওরে কাটা হচ্ছিল তাও বৃষ্টির কারণে জমি থেকে ধান পরিবহন করার রাস্তাঘাট ছিল পরিবহনের অযোগ্য। অনেক কষ্ট স্বীকার করে জমি থেকে কাটা ধান তাদের ধানের খলায় নিতে হয়েছে। পাশাপাশি যে সমস্ত ধান মারাই করা হয়েছে সেগুলোতে চারা গজিয়েছে। সব মিলিয়ে আজ যেন তারা উৎসবে আনন্দে ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছে।
উপজেলার উজান তাহিরপুর গ্রামের কৃষক তাহিরপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি দুই হাল জমির পুরো ধানই মাড়াই করে খলায় নিয়ে গত ২০ দিন ধরে বসেছিলাম। আজকের রোদে আশা করি ৮০ ভাগ ধানই গোলাতে উঠে যাবে।’
মারালা গ্রামের কৃষক মিয়া হোসেন বলেন, ‘২৮ দিন পরে রোদ্র ওঠায় হাওরে কৃষকের মুখে হাসি ফুটছে। এ যেন রোদ নয়, এটি আল্লাহর নিয়ামত। ’
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের প্রবীণ কৃষক আব্দুল আহাদ বলেন, ‘ছোট বয়সে আমরা বৈশাখ মাস এলে ধানের খলায় কলস ভর্তি পানি নিয়ে যেতাম। এইবার কি বৈশাখ আইলো খলাতে কলস ভর্তি পানি নিয়ে যাবো দূরের কথা। গ্লাস দিয়ে পানি নেয়ারও প্রয়োজন হয় নাই।’
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্ণেন্দু দেব বলেন, ‘দীর্ঘ ২৮ দিন পর প্রখর রোদ্র ওঠায় উপজেলার বিভিন্ন হাওরের কৃষকরা মনের আনন্দে ধান শুকানোয় ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রকৃতপক্ষে আজকের রোদ এক সপ্তাহের কাটামারা এগিয়েছে। আমি নিজেও কৃষকদের আনন্দ দেয়ার জন্য বিভিন্ন ধানের খলাতে ঘুরে দেখেছি।’