২৯ বছরেও সম্পন্ন হয়নি তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক

গোলাম সরোয়ার লিটন
তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের একমাত্র উঁচু পথ তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক। ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের কাজ শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। কিন্তু আজো যানবাহন চলাচলের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় যাতায়াত দুর্ভোগে আছেন উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। গতি নেই ব্যবসা বাণিজ্যেও। এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত এ সড়কটি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী ও এলজিইডি সুত্র জানায়, তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। এ সড়ক দিয়েই উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন বাদাঘাট, বড়দল উত্তর ও শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের লক্ষাধিক বাসিন্দা হেমন্তে ও বর্ষায় উপজেলা সদরে যাতায়াত করে থাকেন। তাছাড়া জেলার তিনটি এলসি স্টেশন উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে অবস্থিত বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলীতে উপজেলা সদর থেকে যাতায়াতে এই সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। উপজেলার খনিজ বালু ও পাথর সমৃদ্ধ যাদুকাটা নদীতে যাতায়াতেও এ সড়ক দিয়েই যেতে হয়। বর্তমান সারাদেশের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান উপজেলার জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান, বড়গোপ টিলা, শহীদ সিরাজ লেক ও লাকমাছড়াতে উপজেলা সদর থেকে যাতায়াতেরও একমাত্র সড়ক এটি। কিন্তু গত ২৯ বছরেও এ সড়কটি নির্মিত না হওয়ায় সড়কটি ব্যবহার করে যাতায়াতে লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কের বাদাঘাট ইউনিয়নের হুসনার ঘাট থেকে পাতারগাঁও পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার স্থান কাঁচা। এর ১ কিলোমিটার সড়ক পার হতে হয় ছোট নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে। বাকী ১ কিলোমিটার দুরত্ব পায়ে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া এ সড়কের দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের টাকাটুকিয়া সেতুর উত্তর অংশের মাটি প্রতি বর্ষায় সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। হুসনার ঘাট থেকে জামালগড় রাস্তার সম্মুখ পর্যন্ত এবং সড়কটির বাদাঘাট ইউনিয়নের পাতারগাঁও থেকে বাদাঘাট বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকা সংস্কারের অভাবে ভাঙাচোরা। এই বেহাল সড়ক দিয়ে নারী, শিশু, বৃদ্ধ, রোগী ও গর্ভবতীরা ঝুঁিক নিয়ে চলাচল করছেন। অনেকেই আবার মোটর সাইকেলে করে বিভিন্ন মালামাল চরম ঝুঁকিতে পরিবহন করছেন। এ কারণে প্রতিদিনই ঘটছে ছোটঘাট দুর্ঘটনা। এ সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াতকারী লোকজনের চোখে মুখে ভয় আর অসহায়ত্বের ছাপ দেখা গেছে।
বাদাঘাট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. তাবারক হোসেন বলেন, ১৭ বছর আগে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিতে তাহিরপুর যাওয়ার সময় দেখেছিলাম এ রাস্তায় কাজ চলছে। কিন্তু এত বছর পরও সড়কের কাজ সমাপ্ত হয় নি। তাই কমেনি জনদুর্ভোগও।
উপজেলার মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেরিন সালমার বলেন, দাপ্তরিক ও চিকিৎসার কাজে আমাদেরকে প্রায়ই উপজেলা সদরে যেতে হয়। যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি। যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষাকালে এ দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়।
ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক সেলিম মিয়া বলেন, এ রাস্তায় যাত্রী বা মালামাল নিয়ে চলাচল অনেক ঝুঁিকপূর্ণ। একটু বৃষ্টিতেই কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। তখন মোটর সাইকেল চলাচলও বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে অনেকেই চরম ঝুঁকি নিয়ে মালামাল বা যাত্রী পরিবহন করে থাকেন।
বাদাঘাট বাজারের একটি ধান ভাঙানো মিলের ম্যানেজার পরাণ বৈদ্য বলেন, এ রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় প্রতি বস্তা চাল পরিবহনে আমাদের একশত টাকা বেশি খরচ পড়ে। এ কারণে আমাদের ব্যবসায় কোন গতি নেই।
বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সেলিম হায়দার জানান, তাহিরপুর-বাদাঘাট রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী হলে ব্যবসা বাণিজ্যের গতি বাড়বে। দ্রব্যমুল্যের দামও কমবে।
উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীর বলেন, তাহিরপুর-বাদাঘাট রাস্তাটি সংস্কারের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নৌকা পারাপারের অংশে একটি ৭শ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মাণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবীর বলেন, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে বড় ধরণের অর্থ বরাদ্ধ প্রয়োজন। এজন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো আছে। এ বিষয়ে আমাদের চেষ্টা অব্যাহ আছে। তিনি আরো জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বর্ষায় বৃষ্টিতে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানিতে রাস্তাটি ভেঙে যায়। এ কারণেই প্রতিবছর রাস্তাটি ভাঙনের কবলে পড়ে।