৩২ টি বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, খোলা হয়েছে দুইটি আশ্রয় কেন্দ্র

জগন্নাথপুর অফিস
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি, পাইলগাঁও, ও রানীগঞ্জ ইউনিয়ন ও পৌরএলাকার একাংশে প্রায় ৪৫/৫০ টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। পানি উঠেছে হাট-বাজার, রাস্তাঘাটসহ ঘরবাড়িতে। এর মধ্যে ১৫/২০ পরিবারের বসতবাড়ি ছেড়ে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া পাইলগাও ইউনিয়নের হাড়গ্রাম ও অনঙ্গমহল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ৩২টি বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ায় কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর কালনিচর, শুকলাম্বরপুর, মিলিক, দাওরাই, কাকবলী, পাঠকুরা, জয়দা, শেওরা, মিঠাভরাং, ঐয়ারকোণা, ফেচি, নোয়াগাঁও,বুরাইয়া, সম্ভপুর,তাজপুর, শ্রীকৃষ্ণপুর, হবিপুর, জামালপুর, রুপসপুর, সুরতনপুর, ফেচিশেওরা, পাইলগাঁই ইউনিয়নের নতুন কসবা, জালালপুর, পূর্ব কাতিয়া, কাতিয়া, বড় ফেচিবাজার, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ বাজার ও পৌরএলাকার একাংশসহ প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এছাড়া ভবেরবাজার-নয়াবন্দর-গোয়ালাবাজারের সড়ক ও জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়ক পানিতে ডুবে যাওযায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া পৌরএলাকার ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়িতে পানি উঠেছে।
আশারকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মুহিবুর রহমান রাসেল বলেন, আমাদের ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়ে পড়েছে। গ্রামের রাস্তা-ঘাটসহ বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় ১৫/২০ পরিবার তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, বন্যায় কবলিত এলাকার মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বকুল চন্দ দেব বলেন, ২০/২৫টি গ্রামের লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পাহাড়ী ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে কুশিয়ার নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। তবে আজ (বুধবার) পানি বাড়েনি বলে তিনি জানিয়েছেন।
রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, রানীগঞ্জের প্রধান হাটবাজারসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা পরিস্থিতি বর্তমান অপরিবর্তিত রয়েছে।
পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহান আহমদ বলেন, ৪/৫দিন ধরেই ইউনিয়নের ৫/৬টি গ্রামের মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে। ফেচিবাজারের পানি এখনও কমেনি।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ ও বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পানি প্রবেশ করায় ৩২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পানি আর বৃদ্ধি পায়নি। আশা করছি পানি কমতে শুরু করবে। এর মধ্যেই দুইটি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।