৩ হাজার গ্রাহক গ্যাসের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে কমপক্ষে ৩ হাজার গ্রাহক গ্যাস সংযোগ প্রাপ্তির জন্য গত দুই বছর হয় জালালাবাদ গ্যাসের স্থানীয় অফিস এবং সিলেট আঞ্চলিক অফিসে দৌড়ঝাঁপ করছেন। বাড়িতে গ্যাসের রাইজার এনে রেখেছেন। কিন্তু ঘরের চুলায় গ্যাসের সংযোগ নিতে পারেননি এমন গ্রাহকের সংখ্যাও ২০০’এর উপরে হবে। এরা বর্তমান সরকারের সময়কালে গ্যাস পাবেন কী-না এ নিয়েও দুশ্চিন্তায় ভোগছেন। রাইজারের ফি’ দিয়েছেন ১৫০ জনেরও বেশি গ্রাহক। এরা রাইজার এখনো (১৭ অক্টোবর পর্যন্ত) পাননি, আদৌ পাবেন কী-না, এটিও কেউ নিশ্চিত করতে পারছেন না। কবে পাবেন এটিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলতে পারছেন না।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়ার গ্রাহক ডা. পরিতোষ চন্দ্র তালুকদার, আব্দুর রাজ্জাক, হাসননগরের আব্দুল হাকিম, উকিলপাড়ার সুবল দাসসহ ২০০’এর অধিক গ্রাহকের বাসায় দুই বছর আগে ২০১৬’এর মে মাসে রাইজার দিয়েছেন জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ, কিন্তু এখনো (১৭ অক্টোবর পর্যন্ত) এরা ঘরের চুলোয় গ্যাস সংযোগ পাননি।
শহরের মল্লিকপুরের আব্দুল হক, শাজাহান মিয়া, কৃষ্ণ শুক্লবৈদ্যসহ ১৫০ জন গ্রাহক প্রায় দুই বছর আগে রাইজারের জন্য টাকা জমা দিয়েছেন। তাদের বাড়িতে রাইজার দেওয়া হয়নি। রাইজার দিতে পারবে কিনা, এই সিদ্ধান্তও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানাতে পারছে না এসব গ্রাহকদের।
জালালাবাদ গ্যাসের ঠিকাদার সুনামগঞ্জ শহরের বাসিন্দা সনাই পুরকায়স্থ ও বিদ্যুৎ দেব বললেন,‘সুনামগঞ্জের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় কমপক্ষে ৩ হাজার আবাসিক গ্রাহক গ্যাস সংযোগের জন্য নিয়মিত অফিসে দৌড়ঝাঁপ করছেন, খোঁজ খবর করছেন, কিন্তু কেউই তাদেরকে সঠিক করে কিছুই বলতে পারছেন না।’
জালালাবাদ গ্যাস সিলেটের গণসংযোগ কর্মকর্তা বললেন,‘গত ৩ মাস ধরে এক রাইজার থেকে কেবল আলাদা আলাদা রাইজার দেবার কাজ করা হচ্ছে। যেমন ৫ ভাইয়ের ৫ ডাবল চুলো আছে। অথচ. রাইজার একটি, তারা চাইলে আলাদা আলাদা রাইজার করতে পারছে। নতুন কোন চুলো বা লোড বাড়ানো হচ্ছে না।’
জালালাবাদ গ্যাসের সিলেটের জিএম (মার্কেটিং ও প্রশাসন) প্রকৌশলী শাহিনুর ইসলাম বলেন,‘নতুন গ্যাস সংযোগের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত এখনো জানাননি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, হবে কি, হবে না, এটিও এখন কিছুই বলতে পারবো না।’