৪ বছর ধরে বিদ্যুৎহীন

বিশেষ প্রতিনিধি
পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত বিদ্যুৎ লাইন মানুষের কোন কাজে আসছে না। চার বছর ধরে বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়া এই বিদ্যুৎ লাইন কেবল দেখছেন ১২ গ্রামবাসী। কাজ শেষ না করে ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় এই লাইনটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। অবশ্য বিদ্যুৎ অফিসের একজন প্রকৌশলী বলেছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ না কী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশের পরিচালক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বিদ্যুৎ লাইনের উদ্বোধন করবেন এই নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় এই গ্রামগুলোর বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন নিয়ে সমস্যা হয়েছে। তবে এই দুই নেতাই উদ্বোধন করা নিয়ে কোন ধরনের জটিলতার কথা স্বীকার করেননি।
সুনামগঞ্জ শহরতলির মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের বেতগঞ্জ, মনোহরপুর, জায়ফরপুর, হরিপুর, তেলিকোনা, খাগুড়া, আলমপুর, লামাগাঁও, দক্ষিণহাটি, উত্তরহাটি, নূরপুর ও কান্দিগাঁও গ্রামের প্রায় তিন হাজার গ্রাহকের বাড়ির সামনে দিয়ে বিদ্যুৎ লাইনের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে কাজ শেষ না করেই টাঙ্গাইলের ঠিকাদার খোকন মিয়া সবকিছু গুটিয়ে সুনামগঞ্জ ছেড়ে চলে যান। এই লাইনের কাজ যেটুকু করা হয়েছিল, সেটুকুই ৪ বছর ধরে কেবল দেখছেন এলাকাবাসী।
মনোহরপুরের বাসিন্দা শামিম আহমদ বলেন,‘২০১৫ সালে বিদ্যুৎ লাইনের কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের তেলিকোনা গ্রামের মুন্সেফ আলীর বাড়ির সামনে থেকে মির্জাপুর এবং মনোহরপুরের আছদ আলী মাস্টারের বাড়ি থেকে নয়াবাড়ি (মনাইর বাড়ি) পর্যন্ত কাজ না করেই এলাকা ছেড়ে চলে যায়। ৩ বছর ধরেই আমরা কেবল লাইন দেখছি। বিদ্যুৎ দেখি নাই।’
আলমপুর গ্রামের যুব নেতা শামছুদ্দিন বললেন,‘বিদ্যুৎ লাইন টাঙানো হলেও মানুষের বাড়িতে বিদ্যুৎ দেবার ব্যবস্থা হয়নি। এজন্য গ্রামবাসী বলেছে বিদ্যুৎ লাইন চালু করে লাভ কী? মানুষের উপকার না হলে বিদ্যুৎ লাইনের প্রয়োজন নেই।’
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ তারেক বলেন,‘সিলেট বিভাগের একটি বড় প্রকল্পের অধীনে মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের এই গ্রামগুলোর বিদ্যুতায়নের কাজ হয়েছিল ২০১৫ সালে। খোকন মিয়া নামের টাঙ্গাইলের এক ঠিকাদার কাজ করিয়ে ছিলেন। মোল্লাপাড়ার গ্রামগুলোর বিদ্যুতায়নে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। একটি বাড়ির উপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নিতে না দেওয়ায় ট্রান্সফরমার থেকে গ্রাহকের বাড়ির আঙিনায় নেওয়ার কাজ (লো-টেনশন লাইন) না করেই ঠিকাদার চলে যায়। এছাড়া এই কাজ শেষ করার আগেই উদ্বোধন কে করবেন এই নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ সাহেব না কী পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশের ডিরেক্টর ব্যারিস্টার ইমন সাহেব এটি উদ্বোধন করবেন এই নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে গ্রাহকরা বলেন, ‘বাড়িতে বিদ্যুৎ আসবে না, অথচ বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ লাইন উদ্বোধন হবে, এটি করতে দেওয়া হবে না। এসব সমস্যায় লাইনের কাজ শেষ হবার তিন বছর পরও মোল্লাপাড়ার এই গ্রামগুলোতে বিদ্যুতায়ন হয়নি।’
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তারেক আহমদ বললেন,‘আমি সুনামগঞ্জে যোগদানের আগেই এই বিদ্যুৎ লাইনের কাজ নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। এখন আবার পুরো সিলেট বিভাগের পুরাতন লাইনের সংস্কারের কাজ হবে। তখন ঐ অংশের কাজও শেষ হবে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ এবং ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেল কোম্পানী অব বাংলাদেশের পরিচালক হওয়ার সুবাদে আমি মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের এই গ্রামগুলোর বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু এই কাজ শেষ হবার আগেই ঠিকাদার পালায়। আমি ঠিকাদারের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ শেষ করাতে না পারায় মানুষের বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছানো যায়নি। এজন্য উদ্বোধনও হয়নি। উদ্বোধন নিয়ে কোন জটিলতা তৈরি হয়নি।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ এমপি বলেন, ‘আমার প্রচেষ্টায় মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের এই বিদ্যুৎ লাইনের কাজ হয়েছে। এই কাজ শুরুর উদ্বোধনও আমি করেছি। ঠিকাদার কাজ শেষ না করেই পালিয়ে যায়। নির্বাহী প্রকৌশলীকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছি। উদ্বোধন কে করবে, এই নিয়ে কোন সমস্যা হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’