৫টি উপজেলা থেকে কারিগরি প্রতিবেদন আসেনি

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা ২০১৭ অনুযায়ী কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসন সম্মেলক্ষে কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ প্রত্যেক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থার খোজ খবর নেন এবং সভায় কয়েকটি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিডি) প্রকৌশলীদের কাজের গাফিলতি বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।
কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জেলা কমিটির সভায় জানানো হয়, এবছর সুনামগঞ্জে ৭২৫টি পিআইসির মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে ৬৮২টির এবং ১৩৫ টি ক্লোজারের মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে ১৩২টির। যার মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা, জগন্নাথপুর উপজেলা, জামালগঞ্জ উপজেলা, দিরাই উপজেলা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা তাদের বাঁধের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক কারিগরি রিপোর্ট প্রদান করলেও তাহিরপুর উপজেলা, ধর্মপাশা উপজেলা, দোয়ারাবাজার
উপজেলা, ছাতক উপজেলা, শাল্লা উপজেলা ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা কারিগরি রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি। এসময় ওইসকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ কারণ হিসেবে উপজেলা এলজিডি’ প্রকৌশলীদের সহায়তা না করাকেই দায়ী করেছেন।
সভায় কারিগরি প্রতিবেদক জমা না দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিডি) উপজেলা প্রকৌশলীগণকে বারবার বলা সত্বেও তারা এসকল বিষয়ে কোন গুরুত্ব দেননি।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, বাঁধের কাজে কোন গাফলাতি সহ্য করবো না। যেসকল পিআইসি নিয়ে বির্তক আছে সেগুলো খুব ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে নিবেন। হঠাৎ করে কেনো পিআইসি সংখ্যা বৃদ্ধি পেলো, এখানে আসলেই বাঁধের প্রয়োজন আছে কি না তা যাচাই-বাছাই করা সকলের দায়িত্ব।
এসময় জেলা প্রশাসক অসন্তুষ্ট হয়ে বলেন, অনেক বাঁধের প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়নি। স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এই বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। কাজ শুরু আগে সাইনবোর্ড লাগানোর কথা । গত বছরের চাইতে ১৫৩টি প্রকল্প বাড়ার বিষয়ে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের টাক্সফোর্সের মাধ্যমে যাচাই প্রতিবেদন দখিল করার নির্দেশনা দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. এমরান হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, সাবেক পিপি অ্যাড. শফিুকল আলম প্রমুখ।