৫৬ শতক ভূমি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলার একমাত্র ইংলিশ ভার্সনের বিদ্যাপীঠ ‘বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল’এর নামে জমি প্রদান করার অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার বিকালে শহরের মনোরম পরিবেশে থাকা জেলা প্রশাসনের (কাছারি বাড়ি হিসাবে পরিচিত) সাবেক ভূমি অফিসের ৫৬ শতক জমি বিয়াম স্কুলের অনুকূলে দেবার অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। এই স্থানটির কিছু পুরোনো স্থাপনায় গত প্রায় ১১ বছর ধরে সুনামগঞ্জের বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল পরিচালনা হয়ে আসছে। সম্প্রতি প্রায় ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিয়াম স্কুলের ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তু জমি বিদ্যালয়ের নামে না হওয়ায় এই ভবন নির্মাণ কাজ বিলম্বিত হচ্ছিল।
সুনামগঞ্জ বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৮ সালে। ২০০৯ সালের ১৭ জানুয়ারি তৎকালীন বিয়াম ফাউন্ডেশনের ডিজি ড. মোহাম্মদ সাদিক এই বিদ্যাপীঠের একাডেমিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বর্তমানে এই বিদ্যাপীঠে ১৮৩ জন শিক্ষার্থী। শহরের ষোলঘর এলাকায় সুরমা নদীর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে এই বিদ্যাপীঠের ক্যাম্পাস। শহরের একমাত্র এই ইংলিশ ভার্সনের স্কুলটি শুরু থেকেই নানা সমস্যা নিয়ে এগুলেও বরাবরই ফলাফল ভাল করেছে এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা।
বিগত প্রায় ১১ বছরে নানা বাধা অতিক্রম করে বিদ্যালয়টি এখন শহরের আলোচিত বিদ্যাপীঠের মধ্যে নিজেদের স্থান করে নিয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভূমি গত রোববার পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের অকৃষি খাস জমি (কাছারি বাড়ী) হিসাবেই ছিল।
এ কারণে প্রায় তিন মাস আগে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন ্য দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার নিয়োগ দিলেও নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারেন নি তারা। রোববার এই বিদ্যালয়ের অনুকূলে ৫৬ শতক জমি দেবার আবেদনটি অনুমোদন দেন।
প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালয়টির জন্য জমি দিয়েছেন সংবাদ পেয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা খুশী হয়েছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক বিন্দু তালুকদার বললেন, শিক্ষানুরাগী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ আমরা। জেলা শহরের একমাত্র ইংলিশ ভার্সনের এই স্কুল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতায় নিজস্ব ক্যাম্পাসে হবে, অত্যাধুনিক ভবনে হবে পাঠদান। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। বিদ্যালয়ের সূচনা লগ্ন থেকে এই জেলার কৃতী সন্তান বিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রাক্তন ডিজি ড. মোহাম্মদ সাদিক আন্তরিকভাবে এর উন্নয়নে কাজ করছেন, তাঁর প্রতিও কৃতজ্ঞ আমরা।
শিক্ষার্থী অভিভাবক অ্যাডভোকেট একে এম মহিম বললেন, মনোরম পরিবেশে সরকারি জমিতে অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠেছিল সুনামগঞ্জ বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল। কিন্তু স্কুলের নিজস্ব ভূমি না থাকায় বিপাকে ছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জমি দেওয়ায় স্কুলটির অগ্রগতির পথে সকল বাধা দূর হলো।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবুল হাসান বললেন, আমরা যারপর নাই আনন্দিত। আমাদের সকল শিক্ষক প্রাণপণ চেষ্টা করবেন বিদ্যালয়টিকে আধুনিক যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বললেন, সরকারী কাছারি বাড়ীর জমি বন্দোবস্ত দেওয়া বা দান করতে নানা জটিলতা রয়েছে। আমরা বার বার এই বিষয়ে যোগাযোগ করে কিছুই করতে পারছিলাম না। শুরু থেকেই অনুপ্রেরণা দেওয়াসহ নানাভাবে সহায়তা করছিলেন সুনামগঞ্জের কৃতী সন্তান বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক স্যার। দুদক‘এর সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত স্যারও সহযোগিতা করেছেন। একপর্যায়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান স্যার এবং মাননীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্‘র ডিও লেটারসহ প্রস্তাবনা পাঠানো হলে এবং সাদিক স্যার, দিলোয়ার বখ্ত স্যার এবং ভূমি সচিব স্যারের সহযোগিতায় শহরের পছন্দসই মনোরম পরিবেশের ৫৬ শতক জমি বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুলের অনুকূলে অনুকূলে প্রদানের অনুমোদন হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জের বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুলের কোমলমতি শিশুদের এই প্রতিষ্ঠানকে বিজয়ের মাসে ৫৬ শতক জমি উপহার দিয়েছেন।
পিএসসির সদ্য অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সদিক বললেন, জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষানুরাগের বিষয়টি শুধু জাতীয়ভাবে নয়, ইউনেস্কোসহ অন্যান্য অনেক রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তাঁর কাছ থেকেই এ ধরনের উদারতা প্রত্যাশিত।