৫ টাকা কেজি দরে গুড়ো দুধ খাওয়াবেন ঠিকাদার

এমএ রাজ্জাক, তাহিরপুর
গাভীর দুধের লিটার ৫ টাকা, কিচমিচের কেজি ৫ টাকা, মার্কস গুড়ো দুধ কেজি ৫ টাকা, লাচ্ছি সেমাই (বনফুল) ৫ টাকা, কই, মাগুড়, শিং ও টেংরা মাছ কেজি ১৪০ টাকা । বাজার দরের সাথে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যমূলক দর দিয়ে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের রোগীদের খাদ্য সরবরাহের ঠিকাদার হিসাবে দায়িত্ব পেলেন জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার দাদা এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর নবী হোসেন। এ খবর শুনে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী       মনে করছেন স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের রোগীদের খাদ্য তালিকায় এমন মূল্যের পেছনে অন্য কোন দুরভিসন্ধি আছে। যার খেসরাত হিসাবে রোগীদের নি¤œমানের খাবার দেয়া হবে। এ ব্যাপারে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী সানি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান ১৫ জানুয়ারি তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের খাবার সরবরাহের ঠিকাদার হিসাবে নিয়োগ পেতে দরপত্র জমা দেন ৯টি প্রতিষ্ঠান। ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দরপত্র যাচাই করে নির্বাচন করা হয় দাদা এন্টারপ্রাইজকে। দাদা এন্টারপ্রাইজ প্রতিষ্ঠানের দরপত্রে খাবার তালিকার ২৮ টি পণ্যের দামের মধ্যে একটিরও প্রচলিত বাজার দরের সাথে মিল নেই। তরল দুধের বাজার দর প্রতি লিটার ৮০ টাকা হলেও দেওয়া হয়েছে ৫ টাকা। মার্কসগুড়ো দুধ প্রতি কেজির বাজার দর ৬শ’ টাকা হলেও দরপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতি কেজির দাম ৫ টাকা, ১৫শত টাকা কেজি এলাচির দাম উল্লেখ করা হয়েছে ৮৫ টাকা। এমনিভাবে প্রতি কেজি কৈ, শিং, মাগুরের স্থানীয় বাজার দর কেজি প্রতি ৫শত টাকা হলেও দরপত্রে লিখা  হয়েছে ১৫০ টাকা। দেশী মুরগীর ( পা, মাথা, গিলা, কলিজা ও নাড়ীভুড়ি ছাড়া) প্রতি কেজি মাংসের বাজার দর কমপক্ষে ৬ শত টাকা হলেও দরপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে ২৬০ টাকা। দরপত্রে উল্লেখ করা রাধুনীর হলুদ, শুকনা মরিচ, ধনিয়াসহ বিভিন্ন মসলার দামও দেওয়া হয়েছে বাজার দরের চেয়ে অর্ধেক দামে।
স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সুত্র জানায়, বিগত এক যুগ ধরেই খাবারের এ রকম মূল্য তালিকা দিয়েই ঠিকাদারী পেয়ে খাবার সরবহরাহ করে আসছেন ঠিকাদাররা। বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য না থাকলেও ঠিকাদররা এ ব্যবসাটিকে লাভবান মনে করে খাবার সরবহরাহের ঠিকাদারী পেতে নানামুখী তৎপরতা চালান। তবে এজন্য রোগীদের খাবারের কোন মান থাকে না। খাদ্য তালিকায় উল্লেখ করা অধিকাংশ পণ্যই রোগীদের দেওয়া হয় না। রোগীরা বেশীরভাগই বাইরের খাবার কিনে খান। দরপত্রে উল্লেখ না থাকলেও নিয়মিত হিসাবে খাবারের তালিকায় থাকে কম দামী পণ্য চাষের পাঙ্গাস মাছ আর পোল্ট্রী মুরগী। আর দুটি পণ্যই স্বাস্থ্যর জন্য নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিমত পুষ্টি বিজ্ঞানীদের।
তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার লিটন বলেন, ‘খাবারের খাদ্য তালিকার মূল্য দেখে রীতিমত চমকে উঠেছি। এমন খাদ্য তালিকা করে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করা ছাড়া আর কিছু না।’
দাদা এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার নবী হোসেন এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি একটি মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বাজার দরের সাথে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্য স্বীকার করে বলেন, দরপত্র রেডি করে নিয়ম অনুযায়ী আমরা সুনামগঞ্জ প্রেরণ করি। তারপর এগুলো সিভিল সার্জন অনুমোদন করেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্নেন্দু দেব জানান, আমি এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।