৫ মাসেও শেষ হয়নি সংস্কার

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কের নলজুর সেতুর ধসে যাওয়ার এ্যাপ্রোচের সংস্কার কাজ শেষ হয়নি পাঁচ মাসেও। প্রায় পাঁচ মাস যাবত সড়কে সরাসরি যানবাহন বন্ধ থাকার পর গত সপ্তাহে মধ্যে অস্থানীয়ভাবে সংস্কার কাজ শুরু হড। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও ধসে পড়েছে অস্থায়ীভাবে নির্মিত সংস্কার কাজ। এ সব তথ্য শুক্রবার জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু মিয়া। তিনি বলেন, পাঁচ মাস পূর্বে নলজুর সেতুর এ্যাপ্রোচে ধসে যাওয়াস্থান কোনোমতে সংস্কার কাজ করে সরাসরি যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ৬ ডিসেম্বর জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর
সড়কের নলজুর সেতুর পাশের সংযোগ সড়কটি (এ্যাপ্রোচ) ধসে পানিতে পড়ে। ফলে জনসাধারন চলাচল করতে গিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়, এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান নলজুর নদীর ওপর ঘোষগাঁও নামক স্থানে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯.১৫ মিটার গার্ডার সেতুর উদ্বোধন করেন। কিন্তুু সংযোগ সড়কের (এ্যাপ্রোচের) জায়গার পশ্চিম অংশের মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকায় এ্যাপ্রোচের কাজ শেষ হয়নি। বিকল্প এ্যাপ্রোচ ব্যবহার করে যান চলাচল শুরু হয়। এই সড়কটির ওপর দিয়ে উপজেলার রানীগঞ্জ, পাইলগাঁও ও আশারকান্দি এ তিনটি ইউনিয়নের মানুষ উপজেলা সদরে আসা যাওয়া করতে হয়। পাশাপাশি এ সড়ক দিয়ে পাশ্ববর্তী ওসমানিগঞ্জ-বালাগঞ্জের থানা সদরে উপজেলাবাসী যাতায়াতের সুবিধা বেশি। একাধিকবার এই স্থানের মাটি ধসে পড়েছে। কিন্তুু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয়ভাবে কোন কাজ না করে সংস্কারের নাম নামমাত্র সামান্য কাজ করেছে। কাজের টেকশনই না হওয়ায় এ্যাপ্রোচ ধসে পড়ে।
কুবাজপুর গ্রামের মাসুম আহমদ বলেন, ‘এলজিইডি কর্তৃপক্ষের দায়সারা কাজের কারণেই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি আমরা। অসংখ্যবার সেতুর এ্যাপ্রোচের ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সামান্য কাজ করে সংস্কারের নামে দুর্নীতিই রয়েছে বেশি। কয়েক মাস সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকা এ্যাপ্রোচে আবারও নামমাত্র কাজ শুরু হয়েছে। একদিকে শুরু হয়েছে। অপর দিকে ধসে পড়ছে। এই হচ্ছে সংস্কার কাজ।’
ঘোষগাঁও এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘নলজুর সেতুদিয়ে এখানকার তিনটি ইউনিয়নের মানুষজন উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। অপরদিকে উপজেলা সদরের বাসিন্দারা কম সময়ে ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের বেগমপুরে যাতায়াত করতে পারেন।’ স্থানীয়ভাবে কাজ করে জনদুর্ভোগ নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃকক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘ধসে যাওয়া এ্যাপ্রোচের সংস্কার কাজের ট্রেন্ডার এরমধ্যে হয়েছে। তারা কিছু দিনের মধ্যে কাজ শুরু করবে। তবে আমরা জনসাধারন কথা চিন্তা করে ভাঙন স্থানে সংস্কার কাজ শুরু করেছি। কাজ করার ফলে এখন যানবাহন চলাচল করছে।’