৫ শিক্ষা সংগ্রামী পাবে শিক্ষা সহায়তা

স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে এবার ৫ জন শিক্ষা সংগ্রামীকে শিক্ষা সহায়তা তুলে দেবেন অতিথিরা। এরা হচ্ছে মধ্যনগরে প্রমা তালুকদার, সে গেল এসএসসি পরীক্ষায় সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে, ছাতকের হাসান আহমেদ, সে জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া শাহজালাল মহাবিদ্যালয় থেকে এবার এইএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে, একই উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ভাতগাঁও গ্রামের তানভীর আহমদ, সেও একই মহাবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের বাগগাঁও গ্রামের প্রিয়াংকা চন্দ, সে বিশ্বম্ভরপুর
দিগেন্দ্র বর্মণ ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার এইচএসসিতে জিপিএ-৩.৫০ পেয়েছে, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের রাজা মিয়া, রাজা মিয়া এবার সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৩.৩৩ পেয়েছে। এই ৫ শিক্ষা সংগ্রামীকে শিক্ষা সহায়তা প্রদানে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন রাজধানীর লুজিন ফ্যাশন লিমিটেডের পরিচালক সুনামগঞ্জের তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা শ্যামল রায়।
প্রমা তালুকদার
প্রমা তালুকদারের বাবা সুনামগঞ্জ শহরের মহল্লায় মহল্লায় ঠেলাগাড়ীতে সবজী বিক্রি করার আয় দিয়ে কোনভাবে সংসার চালান। তাঁর উপার্জিত আয় দিয়ে সংসারই চলছে না। এরমধ্যেই তিনি ২ ছেলে ও ২ মেয়েকে পড়াশুনা করাচ্ছেন। প্রমা’র ভাই বোনেরা নিজেরাও টিউশনি করছে। সংসার চালাতে বাবাকে সহায়তার পাশাপাশি নিজেরা পড়াশুনা করছে। তাঁর এক ভাই শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের বিবিএ শিক্ষার্থী। আরেক ভাই নবম শ্রেণিতে পড়াশুনা করছে। বোন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের নার্সিং ইস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মা নীলিমা তালুকদার গৃহিনী।
হাসান আহমেদ
হাসান আহমেদ’র পিতা একজন কৃষক। বর্গাচাষী। জগন্নাথপুর উপজেলায় লজিং থেকে পড়াশোনা করেছে হাসান। পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য টিউশনি করেছে। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় শাহজালাল মহাবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে হাসান আহমেদ। পড়াশোনার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন জগন্নাথপুর উপজেলার শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মতিন।
হাসানের বাড়ি ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের কেওয়ালীপাড়ায়। পিতা সুরুজ আলী ও মাতা ফয়জুন্নেছার ৪ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে হাসান সবার বড়।
তানভীর আহমেদ
পিতার বয়স হয়ে যাওয়ার কারণে এখন কোন কাজ করতে পারেন না। মা গৃহিণী। চাচাতো ভাই এবং মামার সাহায্য কোন রকমে সংসার চলে তাদের। কিন্তু এরপরও এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে তানভীর আহমেদ। জগন্নাথপুর উপজেলার শাহজালাল মহাবিদ্যালয় থেকে সে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এরআগে এসএসসি পরীক্ষায়ও সে বিজ্ঞান বিভাগে ৪.৬৪ পেয়েছিল। পড়াশোনার ব্যাপারে শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মতিন তাঁকে সহযোগিতা করেছেন। বর্তমানে তানভীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ভাতগাঁও গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছ ও রাখিয়া বেগমের ৩ ছেলে মেয়ের মধ্যে তানভীর বড়। এক ভাই ক্লাস টেন এবং ছোট বোন ক্লাস এইটে পড়াশোনা করছে।
প্রিয়াংকা চন্দ
এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেও কলেজে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল প্রিয়াংকা চন্দ। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে জিপিএ ৩.৫০ পেয়েছে। এসএসসি পরীক্ষায়ও সে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩.৮৬ পেয়েছিল। প্রিয়াংকা অনার্স পড়তে চায়। কিন্তু পারিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সেই আশা পূরণ নিয়ে সংশয় রয়েছে তার।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের বাগগাঁও গ্রামের অনিল চন্দ ও ঊষা রানী চন্দ’র ২ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে প্রিয়াংকা সবার বড়। প্রিয়াংকার বাবা ফুটপাতে ক্ষৌরকর্ম করেন। প্রিয়াংকার ২ ভাই বাবাকে এই কাজে মাঝেমধ্যে সহযোগিতা করে। এক ভাই দিগেন্দ্র বর্মণ ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ছে এবং আরেক ভাই বিশ্বম্ভরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে।
রাজা মিয়া
রাজা মিয়া বিশ্ববিদালয়ে পড়তে চায়। উচ্চ শিক্ষা লাভ করে দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবার চালাতে সহযোগিতা করতে চায় বাবাকে। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগে রাজা মিয়া জিপিএ ৩.৩৩ পেয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি রাজা মিয়া বাবাকে বর্গা চাষেও সহযোগিতা করে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের দিনমজুর হারিস আলী ও জাহানারা বেগমের ৭ ছেলে মেয়ের মধ্যে বড় রাজা মিয়া। এলাকার মানুষের সহযোগিতায় ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছেন এই দম্পত্তি।
এছাড়াও এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪.৯১ পেয়েছিল।