৬৪ জেলায় স্বয়ম্ভর সরকারের স্বপ্ন মুহিতের

সু.খবর ডেস্ক
উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং সরকারের বিকেন্দ্রীকরণে বাংলাদেশে শাসন ব্যবস্থা পুরোপুরি পাল্টে দিতে চাইছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি প্রতিটি জেলায় স্বয়ম্ভর সরকার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা বলেছেন আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে।
মুহিত বলেছেন, বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশ করতে ৬৪ জেলায় ও ৯টি মহানগরে স্বশাসিত স্বয়ম্ভর সরকার প্রতিষ্ঠা জরুরি। আর আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারলে এটি করবেন তিনি।
আগামী নির্বাচনের পর পরেই বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা এবং নির্বাচনী ইশতেহারে বিভিন্ন দলকে এ বিষয়ে তাদের ধারণা ও কার্যক্রম প্রকাশের পরামর্শও দেন মুহিত।
জেলা সরকারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে যে, জনসংখ্যায় ও এলাকায় আমাদের এক একটি জেলা পৃথিবীর প্রায় ৬০টি দেশের চেয়ে বড়। তাদের সেবা প্রদান ও উন্নয়ন উদ্যোগ সর্বোত্তম হতে হলে কোন মতেই সক্ষমতা ও দায়িত্বের প্রতিসংক্রমণ বা বিকেন্দ্রায়ন ছাড়া হতে পারবে না।’
এই জেলা সরকার স্থানীয় উন্নয়ন তদারকি করবে, কিছু রাজস্ব আদায়ও দায়িত্ব থাকতে তাদের। তবে নীতি নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। এই জেলা সরকারের কথা সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদে বিবৃত আছে বলেও জানান মন্ত্রী।
জেলা সরকার ‘স্বপ্ন’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি না কতদিনে আমার এ আশা বাস্তব রূপ লাভ করবে। কিন্তু প্রায় দুই দশক ধরে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেভাবে হচ্ছে সেক্ষেত্রে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনে আমরা এখন প্রস্তুত। এবং সেটি করতে হলে শাসন কাঠামো ঢেলে সাজাতে হবেই হবে।’
‘সবশেষে আমার অতিপ্রিয় বিষয়- উচ্চতর প্রবৃদ্ধি নিয়ে কিছু কথা না বলে পারছি না। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশে নেওয়া যায়। কিন্তু সেজন্য প্রয়োজন ক্ষমতা ও দায়িত্বের প্রতিসংক্রমণ। সেজন্য স্থানীয় সরকারের ঢালাও সংস্কার প্রয়োজন।’
এই সরকারগুলো কেমন হবে, সেটিও জানান অর্থমন্ত্রী। বলেন, ‘এ সরকারগুলোর জন্য তাদের নিজস্ব আমলাতন্ত্র বহাল করতে হবে। তাদের দায়িত্ব ও কার্যাবলির তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। যার একটি দায়িত্বের তালিকায় নির্দিষ্ট করতে হবে কতিপয় বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও জেলা সরকারের যৌথ দায়িত্ব এবং সেটি সমন্বয়ের প্রক্রিয়া।’
‘এ কাজটি করতে পারলে অতি সহজেই জেলা সরকারের গঠন প্রক্রিয়া স্থির করা যাবে। তারপর যে কাজটি হবে কঠিন ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো কেন্দ্রীয় ও জেলা সরকারের মধ্যে রাজস্ব আদায় ও বন্টন বিষয়ে নীতি নির্ধারণ। আমার বিবেচনায় রাজস্ব আদায়ের প্রধান দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারেই থাকবে।’
‘জেলা সরকার খানাভিত্তিক সম্পদ কর এবং নির্দিষ্ট সেবার জন্য সেস আদায় করবে। মোট জাতীয় বাজেটের মোটামুটি ষাটোর্ধ্ব শতাংশ ব্যয়ের দায়িত্ব হবে জেলা সরকারের।’