- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

৬ মাসের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন- চেয়ারম্যান পদে লড়তে আগ্রহী একাধিক প্রার্থী

বিন্দু তালুকদার
আগামী ৬ মাসের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। জেলা পরিষদে নির্বাচন হবে মন্ত্রীর এমন ঘোষণায় নড়ে চড়ে বসেছেন অনেকেই।  সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে লড়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা।
তবে জেলা পরিষদ নির্বাচন কিভাবে হবে, পরিষদের কতটি পদের বিপরীতে নির্বাচন হবে, ভোটার কারা হবেন। এ নিয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু ঘোষণা না হওয়ায় এই নির্বাচন নিয়ে অনেকের মাঝে ধোয়াশাও রয়েছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলদের জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নির্বাচিত করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন দু’দফায় দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম দফা দায়িত্ব পাওয়ার পর গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক থেকে তখন তিনি পদত্যাগ করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। পরে জাতীয় পার্টির সাথে আসন ভাগাভাগি হওয়ায় সুনামগঞ্জ সদরের আসনটি জাতীয় পাটিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। ব্যারিস্টার ইমন সংসদ সদস্য পদে দাখিল করা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। নির্বাচনের কিছুদিন পর আবারো জেলা পরিষদ প্রশাসক পদে মনোনীত হন তিনিই।
জেলা পরিষদে নির্বাচন হবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর এমন ঘোষণায় গত দু’দিন ধরে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নাম শুনা যাচ্ছে বর্তমানে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বর্তমান প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুট, সাবেক মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদ আজাদ ডনের নাম।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র ও উল্লেখিত নেতৃবৃন্দের ঘনিষ্টজনদের সাথে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। ওই সূত্র জানিয়েছে, যদি দলীয়ভাবে   
 নির্বাচন হয় তাহলে তারা সবাই চেষ্টা করবেন দলীয় মনোনয়ন লাভের। দলীয় নির্বাচন না হয়ে যদি নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন হয় তাহলে একাধিক প্রবাসী নেতা গুরুত্বপূর্ণ এই পদের জন্য লড়তে পারেন। এক্ষেত্রে যুুক্তরাজ্যে বসবাসকারী সুনামগঞ্জ, ছাতক ও জগন্নাথপুরের বাসিন্দা একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা চেষ্টা তদবির করবেন।
আজিজুস সামাদ আজাদ ডন দেশের বাইরে থাকায় তাঁর সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর একাধিক ঘনিষ্টজন জানিয়েছেন জেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হলে তিনি প্রার্থী হবেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক নূরুল হুদা মুকুট বলেন,‘জেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয়ভাবে হলে এবং আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলীয় প্রার্থী করলে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। আমি আশাবাদী নির্বাচন হলে আমি দলীয় মনোনয়ন পাব।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে দায়িত্ব পালন করছি। জেলা পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এবং আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেন তাহলে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। এক্ষেত্রে নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে গন্য হবে।’
এ ব্যাপারে কথা বলতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি মতিউর রহমান বলেন,‘আমি রাজনীতি করি, জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আমার আগ্রহ আছে। তবে আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত । আমাকে তিনি প্রার্থী করলে আমি নির্বাচন করব। সবকিছুই নেত্রীর উপর নির্ভর করবে।’
উল্লেখ্য, ঢাকায় জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ছয় মাসের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন দেওয়া সম্ভব হবে । এ নির্বাচনের জন্য আইনে বেশ কিছু সংশোধন ও সংযোজন আনতে হবে। প্রয়োজনে অধ্যাদেশ জারি করে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের চেষ্টা করা হবে।

  • [১]