৬ মাসে আগে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও বকেয়া টাকা মিলেনি

আলী আহমদ. জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর উপজেলায় হাওরের বোরো ফসল (ধান) প্রায় ছয় মাসে আগে কৃষকদের গোলায় উঠলেও ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজের বকেয়া টাকা পাচ্ছেন না পিআইসিরা (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি)। ফলে অর্থকষ্টের পাশাপাশি ঋণের টাকা পরিশোধে পাওনাদারদের অব্যাহত চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাওরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে ঠিকাদারী প্রথা বাতিল করে সরকার স্থানীয় কৃষকদের দিয়ে পিআইসি প্রথা চালু করে কয়েকবছর আগে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) নীতিমালা অনুয়ায়ী কৃষকদের দিয়ে পিআইসি গঠন করা হয় এবং কৃষকরাই বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করে থাকেন। এজন্যে হাওরে বাঁধ নির্মাণে ঠিকাদারদের চেয়ে পিআইসিদের কাজের মানও ভালো।
স্থানীয় পাউবোর আঞ্চলিক কার্যালয় ও কৃষকরা জানান, প্রতি বছরের ন্যায় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে জগন্নাথপুরের ৫০টি প্রকল্পের কাজের জন্য পাউবো লিখিতভাবে কার্যাদেশ প্রদান করে । গত মার্চে মাসেই সম্পন্ন হয় প্রকল্পের কাজ। কৃষকের গোলায় ফসল (ধান) তোলার আগ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজের তদারকির দায়িত্ব পালন পিআইসি সদস্যগণ করলেও গত ৬ মাসেও বাঁধের কাজের পাওনা অবশিষ্ট টাকার বিল পাননি তারা। এতে করে আগামীতে পিআইসিতে অন্তর্ভূক্ত হতে আগ্রহ হারানোর শঙ্কা রয়েছে।
জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরের ৫ নং পিআইসির সভাপতি চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার রনধীর কান্তি দাস নান্টু জানান, প্রায় ছয় মাস আগে বাঁধের কাজ শেষ করেছি। কৃষকরা ধান গোলাম তোলে বেচাবিকিও প্রায় শেষ। কিন্তু আমাদের কাজের টাকা এখনও পরিশোধ করা হয়নি।
তিনি বলেন, ২২ লাখ টাকার প্রকল্পের এখনো ৮ লাখ টাকা পাইনি। প্রায় প্রতিদিন সদরে গিয়ে পাউবোর কার্যালয় খোঁজ খবর নিচ্ছি কবে টাকা পাবো, তাঁরাও বলতে পারছেন না।
তিনি জানান, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে ৫ লাখ টাকা ঋণ করেছি। এছাড়াও আরো তিন লাখ টাকা হাওলাত রয়েছে। পাওনাদারদের চাপে আছি। যথাসময়ে টাকা না পেলে আগামীতে কেউ কাজ করবে না।
১৫ নং পিআইসি সভাপতি একই ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার জুয়েল মিয়া জানান, প্রতিবছর বাঁধের কার্যাদেশ বিলম্বে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে কাজের তুলনায় বরাদ্দের টাকা নিতান্তই কম। এরমধ্যে দ্রুত কাজ শেষ করতে নানান কথা শুনতে হয়। এমনকি সামাজিকভাবে অপমানিত হতে হয়। মান সম্মানের ভয়ে ঋণ করে কাজ সম্পন্ন করেও এখন পর্যন্ত বকেয়া টাকা পাইনি।
তিনি বলেন, তাঁর প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ২০ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত তিন কিস্তির টাকা পেয়েছি। ঋণ আর ধার করে কাজ শেষ করেছি প্রায় ৬ মাস পূর্বে। কিন্তু এখনও বয়েকা বিলের টাকা পাইনি। বর্তমানে ঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়ছি।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম জানান, হাওরে দুর্নীতি রোধে ঠিকাদারী প্রথা বাতিল করে কৃষকদের দিয়ে পিআইসি গঠনের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারের কাজের তুলনায় পিআইসিতে কাজের মান অনেক ভালো। প্রকল্পের কাজ শেষ করার পরও তাদের বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি। এটি সঠিক হচ্ছে না। এরকম হলে আগামীতে বাঁধের কাজে আগ্রহ হারাবেন কৃষকরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জগন্নাথপুর উপজেলা কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ৫০ টি প্রকল্পে ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ সম্পন্ন হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস আগে। পিআইসিদের বকেয়া টাকা পরিশোধের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বার বার তাগিদ নিচ্ছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, জেলা প্রশাসনের মাসিক সভায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।