৭ অক্টোবর সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

বিন্দু তালুকদার
সুনামগঞ্জের তরুণ শিল্পপতি ও উদ্যোক্তা শ্যামল রায়ের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম সফল হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের সহযোগিতায় ‘সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট’ চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
আগামী ৭ অক্টোবর দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার মৎস্য হ্যাচারীর বিপরীত দিকে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পূর্ব পাশে পঞ্চাশহাল মৌজায় ৫ একর জমির উপর এর অবকাঠামো নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
যৌথভাবে ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম. এ মান্নান এমপি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল, সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোক্তা তরুণ শিল্পপতি শ্যামল রায় ও সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনটিস্টটিউট প্রকল্পের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ শহরের তরুণ শিল্পপতি গার্মেন্টস শিল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা শ্যামল রায় সুনামগঞ্জে একটি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানকে উদ্বুদ্ধ করেন। ২০১৪ সালে তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের কাছ থেকে একটি (ডিও লেটার) আধা সরকারি পত্র নিয়ে বস্ত্র অধিদপ্তরে জমা দেন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে নিযমিত যোগাযোগ রাখেন। পরে এমএ মান্নানের সহযোগিতায় এই প্রকল্প প্রস্তাবনাটি পর্যায়ক্রমে বস্ত্র অধিদপ্তর, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ও একনেকে অনুমোদন হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো নির্মাণের চূড়ান্ত মাস্টারপ্লান অনুমোদন করেন।
সুনামগঞ্জ টেস্কটাইল ইনস্টিটিউট প্রকল্প পরিচালকের অফিস সূত্রে জানা যায়, ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছে। গত বছরের ২৫ এপ্রিল এই প্রকল্পের প্রস্তাবনা একনেকে অনুমোদনের পর ২৩ মে পরিকল্পনা বিভাগ এবং ২০ জুন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকল্প অনুমোদনের প্রশাসনিক আদেশ জারী করা হয়। গত বছরের ২৫ জুলাই উপ-সচিব মো. আনোয়ারুল হাবীব প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পর তিনি বদলী হয়ে চলে গেলে নতুন করে বস্ত্র অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো. সাইফুর রহমানকে প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি এখন এই প্রকল্পের প্রশাসনিক দেখ-ভাল করছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সদর এলাকার পঞ্চাশহাল মৌজায় ১১ কোটি ৭২ লাখ ব্যয়ে ৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
৫ একর জমিতে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপনে ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত। আরও দুই একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুই একর জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হলে, ফুটবল খেলার মাঠ ও একটি করে বালিকা ও বালক হোস্টেল নির্মাণ করা হবে।
সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন ভবন ও প্রশস্ত রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করা হবে। থাকবে ফুটবল খেলার মাঠ, সাধারণ মাঠ, সকল ভবনের মাঝে একটি পুকুর, দুইটি প্রবেশপথ।
সুনমগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের জন্য নির্মাণ করা হবে- একটি একাডেমিক ভবন, একটি ওয়ার্কশপ কাম লাইব্রেরি ভবন, একটি স্পিনিং শেড (কটন ও জুট), একটি ওয়েভিং ও নিটিং শেড, একটি ড্রায়িং শেড, অধ্যক্ষের বাসভবন একটি, একটি বালিকা হোস্টেল ভবন, একটি বালক হোস্টেল ভবন, একটি অফিসার্স ডরমেটরি ভবন, একটি কর্মচারী ডরমেটরি ভবন, একটি মসজিদ, একটি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার, একটি শহীদ মিনার, একটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট ও যানবাহনের জন্য পার্কিং স্থান ।
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন,‘ আগামী অক্টোবার মাসের মাঝামাঝি সময়ে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনটিস্টটিউট প্রকল্পের দরপত্র আহবান করা হবে। ডিসেম্বর মাসের শেষ পর্যায়ে নির্মাণ কাজ শুরু হবে। আমরা ইতোমধ্যে ইনস্টিটিউটের জমির মাটি পরীক্ষা ও জরিপ কাজ সম্পন্ন করে ফেলেছি। ’
বস্ত্র অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক ও সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনটিস্টটিউট প্রকল্প পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন,‘আগামী ৭ অক্টোবর ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটির ডিপিপি আগে করায় এর ব্যয় ১৫-২০ কোটি টাকা বৃদ্ধি হবে। সুনামগঞ্জের শিল্পপতি শ্যামল রায় এই প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করা থেকে এখন পর্যন্ত অনেক পরিশ্রম করেছেন। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে তিনি আমাদের সবসময় সহযোগিতা করছেন।’
তরুণ শিল্পপতি ও উদ্যোক্তা শ্যামল রায় বলেন, ‘প্রকল্পটির অনেক কাজই দ্রুততার সঙ্গে হয়েছে। শুরু থেকেই সুনামগঞ্জের ছেলে হিসাবে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে প্রকল্পটির অগ্রগতি বিষয়ে আমি খোঁজ খবর রেখেছি। প্রকল্প বাস্তবায়নে আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে প্রতিনিয়ত সমন্বয় করে যাচ্ছি। আগামী ৭ অক্টোবর এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষার পথ সুগম হবে। এখানকার ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা গ্রহণ করে কাজ করার সুযোগ পাবে। ’
বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন,‘আগামী এক বছরের মধ্যে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এবং জনবল নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে।’
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন,‘এই প্রতিষ্ঠানটি সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করবে এবং দেশের সম্ভাবনাময় শিল্প গার্মেন্টস খাতের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করবে। খুব শীঘ্রই এর অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হবে। আগামীতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন করলে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটকে আমি পূর্নাঙ্গ কলেজে রূপান্তর করব। ’