৭ বছরের শিশুকে পাশবিক নির্যাতন

বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি
বিশ্বম্ভরপুরে ৭ বছরের শিশুকন্যা গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জনকে আসামী করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন শিশুর মা । উপজেলার বাঘবেড় গ্রামে মঙ্গলবার রাত ৮ টায় গণধর্ষণের শিকার হয় ঐ শিশুটি। পুলিশ অবশ্য বলেছে, শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে বখাটে হাসান আলী। অন্য দুইজন তাকে সহায়তা করেছে।
এ ঘটনায় গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় তিনজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন শিশুর মা। মামলার আসামীরা হলো- সলুকাবাদ ইউনিয়নের আক্তারপাড়া গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে হাসান আলী একই গ্রামের কাজনী গাইয়ার ছেলে দানা মিয়া ও চালবন গ্রামের মৃত দরবেশ আলীর ছেলে জসিম উদ্দিন। ঘটনার মূল নায়ক ধর্ষক হাসান আলী (৪৫) কে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বাঘবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঐ শিশুটিকে আশংকাজনক অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ১১ টায় প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের বাঘবেড় গ্রামের মৃত আমানত শাহ্’র বাড়িতে মঙ্গলবার ওরস চলছিল। রাত ৮ টায় হাসানসহ কয়েক যুবক ৭ বছরের শিশু কন্যাকে পুতুল কিনে দেবার কথা বলে গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পেছনে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
ধর্ষিতা শিশুর ফুফু গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন,‘তাঁর ভাইয়ের মেয়েটি জানিয়েছে পুতুল কিনে দেবার কথা বলে হাসান আলীসহ ৩ জন তাকে ইউনিয়ন পরিষদের অফিসের পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। এরপর কান্নাকাটি করে মেয়েটি এসে তাঁদের ঘটনাটি জানায়। পরে মেয়েটির রক্তক্ষরণ হতে থাকলে তারা প্রথমে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এরপর সদর হাসপাতালের ডাক্তাররা তাকে দ্রুত সিলেটে স্থানান্তরের কথা বলেন।’
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ডাক্তার বেঞ্জামিন আহমদ জানান, অতিরিক্ত রক্তকরণের জন্য শিশুটিকে রাতেই সিলেটে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ্ খান বলেছেন, ‘শিশু ধর্ষণের বিষয়টি পুলিশ অতি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, অভিযোগ পাওয়ার ৩ ঘণ্টার মধ্যে রাতেই ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে। তার ২ সহযোগিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’



আরো খবর