৮ উপজেলায় আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ১৬ জন

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ৮ উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ এসব উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমবে আওয়ামী লীগে আওয়ামী লীগে। ইতিমধ্যে শো-ডাউন, সমাবেশ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানাভাবে সুনামগঞ্জ সদর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, ছাতক, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারা, দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় দলের দায়িত্বশীল অনেকে ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবেন।
দিরাই উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়কে। এই উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুর আলম চৌধুরী এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায়। আলতাব উদ্দিন বলেন,‘রোববার সকাল থেকে এলাকাবাসী আমার বাড়িতে ভিড় করেছিলেন, তাঁদের চাপেই আমি প্রার্থী হচ্ছি। এলাকার ভোটাররা বলেছেন, মনোনয়ন দেবার পর তারাই সবকিছু করবেন।’
মঞ্জুর আলম চৌধুরী বলেন,‘কিছুই করার নেই, এবার ভোটাভোটি হবে আওয়ামী লীগে আওয়ামী লীগে।’ দিরাই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায় বলেন, ‘তৃণমূল থেকে আমার নাম গেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে আমার নাম কেন গেলো না সেটি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আমি ভোটারদের জানাতে চাই। এজন্য প্রার্থী হবো আমি।’
দোয়ারাবাজার উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রহিমকে। এই উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের আহ্বায়ক ফরিদ আহমদ তারেক ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান তানভির আশরাফ চৌধুরী বাবু।
উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের আহ্বায়ক ফরিদ আহমদ তারেক বলেন,‘যাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁর নাম উপজেলা বা জেলা থেকে দেওয়া হয়নি। তবুও তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি দলও করেন না। দল করবো আমরা, মনোনয়ন পাবে আরেকজন এটা মেনে নেওয়া যায় না। মনোনয়ন ফরম কিনেছি নির্বাচন করবো আমি।’
ছাতক উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমানকে। কিন্তু এই উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতা আওলাদ আলী রেজা রোববার মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তিনিও প্রার্থী হবার ঘোষণা দিয়েছেন। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে উল্লেখ করার মতো ভোট পেয়েছিলেন আওলাদ আলী রেজা। এই উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলও মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তিনি প্রার্থী হবার ঘোষণা দিয়েছেন।
ধর্মপাশা উপজেলায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক শামীম আহমদ মুরাদকে। এই উপজেলায় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিস।
শামীম আহমদ বিলকিস বলেন,‘ধর্মপাশায় দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে আদর্শবানরা মূল্যায়িত হয়নি। দলীয় সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কানে সঠিক কথা পৌঁছায় না। এজন্য আমরা অবহেলায়।’
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ভাই মোজাম্মেল হোসেন রুখন রোববার উপজেলা সদরে শো-ডাউন করে প্রার্থী হবার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে ধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে। এই উপজেলায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি, বিশ্বম্ভরপুর কলেজের প্রভাষক মোশররফ হোসেন ইমন প্রার্থী হবার ঘোষণা দিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বর্মণ বলেছেন,‘দলীয় নেতা-কর্মী সমর্থকদের চাপ রয়েছে প্রার্থী হবার জন্য, আমি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি।’
জামালগঞ্জ উপজেলায় দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদকে। এই উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রেজাউল করিম শামীম প্রার্থী হবার ঘোষণা দিয়েছেন।
রেজাউল করিম শামীম বলেছেন,‘দলের পক্ষ থেকে বাধা নিষেধ থাকলে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচন করবো। ৪০ বছর হয় রাজনীতি করছি, কখনোই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করিনি। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নানা ষড়যন্ত্রের কারণে ৭৭৩ ভোটে হেরেছি। এবার জনগণই জয় পরাজয় নির্ধারণ করবেন।’
শাল্লা উপজেলা পরিষদে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলআমিন চৌধুরীকে। উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অবনী মোহন দাস স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপলকে। এই উপজেলায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা রাশেদ বখ্ত নজরুল এবং সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট মনিষ কান্তি দে মিন্টু স্বতন্ত্র প্রার্থী হবার ঘোষণা দিয়েছেন।
উপজেলায় উপজেলায় এমন বিদ্রোহের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘তৃণমুল এবং জেলা থেকে নাম গেলো না, এমন অনেকে দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পেয়েছেন। এখন কথা বললে বিষয়টা এমন হবে যে, ‘ভাত কাপড় দিলাম না, কিলাইবার ঘোষাই’। যেহেতু দলের অনেক ত্যাগিদের জন্য কিছুই করতে পারিনি সুতরাং তাঁদেরকে তেমন কিছু বলারও অধিকার হারিয়েছি।’