৮ ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণ করায় সরকারকে অভিনন্দন

জেলার ৮ টি ডিগ্রি কলেজসহ সারা দেশের ২৭১ টি কলেজকে জাতীয়করণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে রবিবার। খবরটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত খুশির, বিশেষ করে শিক্ষার মাধ্যমে জাতি গঠনের চিন্তা করেন যারা, তারা এতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিশা খুঁজে পাবেন। আওয়ামী লীগ সরকার এইবার ক্ষমতায় আসার পর প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার বিস্তারে যত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা আগের সকল উন্নয়নের যোগফলের চাইতেও বেশি বৈ কম হবে না। বিদ্যুৎ এর পরেই শিক্ষা সেক্টরে সমধিক গুরুত্বারোপ এই সরকারের সুদৃঢ় ও সুসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়দীপ্ত ভূমিকার পরিচয় বহন করে। এজন্য আমরা বর্তমান সরকারকে অভিনন্দন জানাই। জেলার যে ৮টি ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের চূড়ান্ত ধাপ অতিক্রম করল সেগুলো হলো- বিশ্বম্ভরপুরের দ্বিগেন্দ্র বর্মন ডিগ্রি কলেজ, ছাতক ডিগ্রি কলেজ, দিরাই ডিগ্রি কলেজ, ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজ, দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজ, জগন্নাথপুৃর ডিগ্রি কলেজ, শাল্লা ডিগ্রি কলেজ ও জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ। সরকারিকরণের মধ্য দিয়ে এই কলেজগুলোর ভিত্তিমূল আরও শক্ত হবে এবং সংগত কারণেই এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট এলাকার উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে প্রভূত ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলেই আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করি। মূলত কলেজ জাতীয়করনের মূল উদ্দেশ্যটি তাই।
কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি হলেই কেবল ভাল শিক্ষা দান ও ফলাফল করতে পারে তা সবসময় সত্য নাও হতে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি অবস্থায় শাল্লা ডিগ্রি কলেজের গত দুই বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে এরকম ধারণা পাওয়া যায়। শাল্লা ডিগ্রি কলেজটি গত এইচএসসির ফলাফলে টপকে গেছে জেলার অন্য সব কলেজকে, এমনকি জেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন সরকারি কলেজের চাইতেও তাদের ফলাফল ভাল ছিল। শাল্লা কলেজের এই ভাল ফলাফল অর্জনের ঘটনাটি প্রমাণ করে সরকারিকরণ নয়, বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দানের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি ও শিক্ষার্থীদেরকে ওই পরিবেশে অভ্যস্ত করাটাই মূল কাজ। শাল্লা ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা কমিটি, শিক্ষকম-লী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সেটি করতে পেরেছিলেন। তবে সরকারিকরণ হলে প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি শক্ত হয়, বেতনের জন্য কিংবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য কারও মুখাপেক্ষি থাকতে হয় না। এই বিবেচনায় চাকুরিগত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার কারণে শিক্ষকম-লীর শিক্ষা দানের প্রতি আরও আন্তরিকতা ও আগ্রহ বাড়ার কথা। এখন আমরা দেখতে চাই সরকারি হওয়া ৮টি ডিগ্রি কলেজ সামনের দিনে কেমন ফলাফল অর্জন করে।
মফস্বলের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম একটি সমস্যা হল, শিক্ষক সংকট। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় জেলার প্রায় সবগুলো সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ সঠিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। প্রজ্ঞাপন অনুসারে নতুন সরকারি হওয়া ডিগ্রি কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষকরা আপাতত বদলি হতে পারবেন না, এটুকু স্বস্তির। তবে এ নিয়ে যদি আবার শিক্ষকরা আন্দোলনে নেমে পড়েন তাহলে নীতিমালা বদলে যেতে পারে। তবে আমরা চাই প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপযুক্তসংখ্যক শিক্ষক সবসময় কর্মরত থাকুন। নতুবা সরকারিকরণের ফলে শিক্ষার মান ও পরিমাণ বাড়ার বিষয়ে জনমনে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে তা কর্পুরের মত উবে যেতে সময় লাগবে না।
সরকারকে আবারও অভিনন্দন হাওরের জেলার ৮টি ডিগ্রি কলেজকে একযোগে সরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার জন্য।